কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে চেহারার পরিবর্তন এবং কাফনের নিচে ছাগলের দেহ—এভাবেই খুনের মামলা থেকে বাঁচতে নিজের মৃত্যুর এক অদ্ভুত নাটক সাজিয়েছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের এক ব্যক্তি। এই অভিনব ছলে তিনি প্রায় সফলও হয়ে গিয়েছিলেন।

গত রোববার পুলিশ রাজকুমার রাজভর নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, রাজভর আগেই আদালতে বিভিন্ন নথিপত্র জমা দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, তিনি আর জীবিত নেই এবং তাই বিচারে মুখোমুখি হতে পারবেন না।

২০১৬ সালে যোগেশ সিং নামের এক ব্যক্তিকে খুনের মামলায় রাজকুমারের বিচার চলছিল। আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে তিনি মৌ মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল থেকে একটি জাল মৃত্যুসনদ সংগ্রহ করে আদালতে জমা দেন। এরপর প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি আত্মগোপনে থেকে নিজের মতো জীবনযাপন করছিলেন।

অবশেষে গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) এবং সার্ভিল্যান্স টিমের যৌথ প্রচেষ্টায় কোতোয়ালি নগর পুলিশ রাজভরের নিজ এলাকা খাজা জাহানপুরের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ৩৮ বছর বয়সী রাজকুমার রাজভর গুলি করে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় জামিনে ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলা চলাকালীন রাজভর নিজের মৃত্যুর একটি কাল্পনিক গল্প তৈরি করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার হাত থেকে মুক্তি পেতে আদালতে ভুয়া কাগজপত্র জমা দেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর, যখন মুন্সিপুরা রেললাইনের কাছে যোগেশ সিংকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তির ভাইপো অবিনাশ সিংয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রাজকুমার রাজভর এবং তাঁর বন্ধু সুদর্শন রাজভরের বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩০ মে গাজিপুরে বসে রাজকুমার রাজভর এআইয়ের সাহায্যে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করেন। তিনি শ্মশানের চিতার ওপর শুয়ে থাকা একটি মরদেহের এআই-উৎপাদিত ছবি ব্যবহার করেন এবং মানবদেহের পরিবর্তে একটি ছাগল দাহ করেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিজের মৃত্যুকে বাস্তব বলে প্রমাণ করতে রাজভর শেষকৃত্য ও শ্মশানযাত্রার ছবিও জোগাড় করেছিলেন। এই জাল নথির সাহায্যেই তাঁর মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়েছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুপ কুমার বলেন, “দ্বাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়া রাজকুমার রাজভর পুঁজিবাজারে ট্রেডার হিসেবে কাজ করতেন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে তিনি বেশ কয়েকটি শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ তুলেছিলেন।”

পুলিশের দাবি, খুনের মামলায় আইনি ব্যবস্থার হাত থেকে বাঁচতে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়া এড়াতেই তিনি নিজের মৃত্যুর এই জটিল চক্রান্ত করেছিলেন।

যেহেতু রাজকুমার রাজভর এখন আর ‘মৃত’ নন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে মূল খুনের মামলার বিচার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে। এর পাশাপাশি জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।