চোখের পাতায় দুই ধরনের গ্রন্থি আছে। ঘর্মগ্রন্থি এবং তৈলাক্ত সেবাম নিঃসরণকারী মেয়োবিয়ন গ্রন্থি। পাপড়ির গোড়ায় একাধিক ঘর্মগ্রন্থি বিদ্যমান, যেগুলো পাপড়ির গোড়ার বিদ্যমান থলি বা লেশ ফলিকুলে উন্মুক্ত। মেয়োবিয়ন গ্রন্থিগুলো আকারে বড় এবং পাতার কোণ থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে অবস্থিত।

কোনো কারণে এসব গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে ঘাম এবং সেবাম ভেতরে আটকা পড়ে। এতে গ্রন্থিতে ইনফেকশন (সংক্রমণ) এবং প্রদাহ হয়। পাপড়ির থলি বা লেশ ফলিকুলে পুঁজ জমা হয়ে ফুলে যায়। এটি লালচে বর্ণ ধারণ করে এবং ব্যথা হয়। এটাই হলো স্টাই বা অঞ্জনি।

মেয়োবিয়ন গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে গ্রন্থিতে সেবাম জমা হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে ও ফুলে যায়। একে বলে কেলাজিয়ান। এতে কোনো ব্যথা থাকে না। অঞ্জনি এক থেকে দুই সপ্তাহে সেরে গেলেও কেলাজিয়ান অনেক সময় কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় থাকতে পারে।

সংক্রমণ বা প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ে যেসব কারণে তা হলো চোখের পাতায় খুশকি, ত্বকের সমস্যা যেমন সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, রসাসিয়া একনি ইত্যাদি।

এ ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, হরমোনের প্রভাব, শুষ্ক ত্বক, চোখের স্ট্রেস যেমন রাত জাগা বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাজ করা, বারবার চোখ রগড়ানো বা চুলকানো এবং সাধারণ দৃষ্টি সমস্যা বা রিফ্রেক্টিভ এরর, ভুল প্রসাধনীর কারণেও এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গরম সেক: হালকা গরম পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে চিপে চোখের পাতা বন্ধ রেখে পাতার ওপরে কয়েক মিনিট ধরে রাখতে হবে। এতে পাপড়ির গোড়ায় যেসব ক্রাস্ট থাকে সেগুলো নরম হয়ে যায় এবং ঘন তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে গ্রন্থির মুখ খুলে যায়।

এ ছাড়া আরও কিছু চিকিৎসার মধ্যে আছে—

অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ

প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন

কেলাজিয়ান—অনেক সময় নিজ থেকে ভালো হয়ে যায়। কখোনো ছোট একটি অপারেশনের প্রয়োজন হয়

চোখের পাতার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে বেবি শ্যাম্পু দিয়ে চোখের পাতার খুশকি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

দৃষ্টি সমস্যা থাকলে চশমা ব্যবহার করতে হবে।

রাত জেগে কাজ করার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে ।

মাথায় খুশকি নিয়ন্ত্রণ।

প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

চোখের পাতা নখ দিয়ে খোঁটা বা চোখ রগরানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. মো. ছায়েদুল হক, চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন, ভাইস প্রিন্সিপাল, মার্কস মেডিকেল কলেজ