আচ্ছা বলুন তো, শেষ কবে কারও ফোন নম্বর মুখস্থ ছিল আপনার? শেষ কবে নিজের মাথায় কোনো হিসাব করেছিলেন, ক্যালকুলেটর ছাড়া? প্রশ্নগুলো ছোট, কিন্তু এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বড় ইঙ্গিত।

রাত ৯টায় সাদিয়া (ছদ্মনাম) অফিসের একটা রিপোর্টের জন্য এআইকে বললেন, ‘পুরোটা লিখে দাও।’ ১০ মিনিটেই কাজ শেষ। পরদিন বস জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই সংখ্যাটা কীভাবে এল?’ সাদিয়া উত্তর দিতে পারলেন না!

মনোবিজ্ঞানে একে বলা যায় চিন্তার বোঝা যন্ত্রের ঘাড়ে চাপানো বা কগনিটিভ অফলোডিং। কিছুটা সুবিধাজনক, কিন্তু অতিরিক্ত হলে নিজের বিচারবুদ্ধি ও মৌলিক চিন্তার চর্চা কমে যেতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করছেন।

১. আগে নিজে ভাবুন, তারপর এআইকে জিজ্ঞেস করুন।

২. উত্তর না বুঝে/যাচাই না করে কখনো অন্যকে পাঠাবেন না। কারণ, পরে প্রশ্ন উঠলে দায়টা আপনারই।

৩. সপ্তাহে অন্তত একদিন এআই ছাড়াই কাজ করুন, ঠিক যেমন পেশির জন্য ব্যায়াম দরকার।

যেমন ধরুন, জিপিএস থাকলেও পথ চেনা মানুষ বিপদে সবচেয়ে কম পরে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে। যন্ত্র সাহায্য করুক, কিন্তু বুঝে নেওয়ার দায়িত্বটা থাকুক নিজের হাতেই।

এআই আপনার মস্তিষ্কের সহকারী হতে পারে, কিন্তু বিকল্প নয়। আমাদেরই ঠিক করতে হবে, আমরা কি তাকে দিয়ে চিন্তা করাব, নাকি চিন্তা করতে সাহায্য নেব?

লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর