চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। আজ সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো বড় উন্নয়ন-সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো এই সময়ে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বড় দাতাদের মধ্যে একমাত্র জাপান ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার পরিমাণ ৩৫ লাখ ডলার। তবে নতুন প্রতিশ্রুতি না দিলেও বড় উন্নয়ন-সহযোগীরা তাদের পূর্বের প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ ছাড় করেছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে জাপান সফরে রয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি। জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক, যার পরিমাণ ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এডিবি এই সময়ে ১৬ কোটি ২১ লাখ ডলার প্রদান করেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ভারত দিয়েছে সাড়ে ১০ কোটি ডলার। এছাড়া রাশিয়া ২ কোটি ডলার এবং চীন দেড় কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে।

ঋণ ছাড়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, ঋণ শোধের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা অর্থছাড়ের দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো মোট ৬৬ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ঋণ ছাড় হয়েছিল ১১৫ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, একই সময়ে আগে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল বাবদ বাংলাদেশকে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বিদেশি ঋণের মোট প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাত্র ১২৭ কোটি ডলারের।