যশোরের মনিরামপুরে মাছবোঝাই একটি পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে এক নারী ও তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলের করুণ মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার গালদা মাঠপাড়ায় রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে; তাঁরা হলেন ৩৬ বছর বয়সী মৌসুমী খাতুন এবং তাঁর পুত্র আবদুর রহমান। তাঁদের পারিবারিক নিবাস মনিরামপুরের হানুয়ার গ্রামে। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মৌসুমী খাতুনের স্বামী ফারুক হোসেন (৪০), যিনি মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হানুয়ার গ্রামের প্রাণিচিকিৎসক বিল্লাহ হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “গতকাল বিকেলে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যশোর শহরে গিয়েছিলেন ফারুক হোসেন। সেখানে ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে তাঁরা রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন মৌসুমী।”

প্রত্যক্ষদর্শী ও তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গালদা মাঠপাড়ায় একটি ট্রলিকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগোনোর চেষ্টা করছিলেন ফারুক হোসেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা একটি মাছবাহী পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতেই ফারুক, তাঁর স্ত্রী ও শিশু সন্তান ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা তাঁদের অবস্থা পরীক্ষা করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজিব রায় চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মা ও ছেলের মাথায় আঘাত ছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়।”

এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপটি নিয়ে চালক দ্রুত পালিয়ে গেছেন। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, “দুর্ঘটনার পর পিকআপটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন”, এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।