১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে আবারও নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করলেন দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান এবং শিরিন আক্তার। ১০০ মিটারের পর ২০০ মিটারেও সোনা জিতে স্প্রিন্ট ডাবল পূর্ণ করেছেন এই দুই অ্যাথলেট। বিশেষ করে শিরিন আক্তার ২০০ মিটারে নিজের আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।

গত শুক্রবার প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে ১০০ মিটারে সোনা জিতেছিলেন ইমরানুর ও শিরিন। আজ জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে ২০০ মিটারের লড়াইয়েও সবার আগে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করেন তারা। পুরুষদের ইভেন্টে ২১.১৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন ইমরানুর। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শান্ত কর্মকার সময় নেন ২১.৬৩ সেকেন্ড এবং ২১.৭৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন রাকিবুল হাসান।

অন্যদিকে নারীদের ২০০ মিটারে ২৪.৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতে নিজের রেকর্ড ভেঙেছেন শিরিন আক্তার। এর আগে ২০২৪ সালের জাতীয় অ্যাথলেটিকসে তাঁর রেকর্ড ছিল ২৪.৬৮ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে ২৫.১১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন শরিফা খাতুন এবং ২৫.৩৩ সেকেন্ডে তৃতীয় হয়েছেন বর্ষা খাতুন।

ইমরানুরের জন্য এই ২০০ মিটারের সোনা জয় কেবল একটি পদক নয়, বরং দীর্ঘদিনের কিছু আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেওয়ার সুযোগ। ২০২২ সালে ৪৬তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ১০০ ও ২০০ মিটার—উভয় ইভেন্টেই সোনা জিতেছিলেন তিনি। গত বছরও সেই সাফল্য পুনরাবৃত্তির সুযোগ ছিল, কিন্তু ১০০ মিটারে সোনা জেতার পর ২০০ মিটারের দৌড় শুরু করতেই পেশিতে টান লাগে তাঁর। ট্র্যাকে পড়ে যাওয়ায় দৌড় শেষ করতে পারেননি তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে নৌবাহিনীর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেবার পুরুষদের ২০০ মিটারে ২১.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছিলেন সেনাবাহিনীর তারেক রহমান।

এছাড়া গত মে মাসে ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসেও ২০০ মিটারে অংশ নিতে পারেননি ইমরানুর। মায়ের অসুস্থতার কারণে সেই ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল তাঁকে। সব মিলিয়ে এবারের এই সোনা জয়ের আনন্দ তাঁর কাছে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে এবার মূলত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই ২০০ মিটারে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইমরানুর। নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসলে এই ইভেন্টে আমি অংশ নিয়েছিলাম মূলত ট্রেনিংয়ের অংশ হিসেবে, জিনিসটা কেমন হয় তা দেখতে। ক্যাজুয়াল ও মজার ছলেই আমি এটি চেষ্টা করেছি। ফলাফল যেমন হয়েছে, তাতে আমি আলহামদুলিল্লাহ বেশ সন্তুষ্ট। সামনে আরও ভালো ট্রেনিং নিয়ে আরও ভালো করার ইচ্ছা আছে, ইনশা আল্লাহ।’

জাতীয় রেকর্ড ভাঙার খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও ০.০৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে তা মিস করায় কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেছে তাঁর মনে। তবে রেকর্ডের চেয়ে ব্যক্তিগত সেরা এবং দলের জন্য পদক জেতানোই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি রেকর্ড করার জন্য দৌড়াইনি, শুধু নিজের সেরাটা দিয়ে রেস শেষ করতে চেয়েছি এবং দলের জন্য একটি মেডেল আনতে চেয়েছি। রেকর্ডটির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম, ভবিষ্যতে এটি ভেঙে ফেলা অবশ্যই সম্ভব।’

দুই ইভেন্টে সোনা জিতে উচ্ছ্বসিত ইমরানুর তাঁর দল নৌবাহিনী এবং দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘এটা দ্বিগুণ আনন্দের! অনুভূতি দারুণ। আলহামদুলিল্লাহ, আমার নেভি টিম এবং বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে আমি অসাধারণ সমর্থন পেয়েছি। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। সবাই আমার এই যাত্রায় সব সময় পাশে আছেন এবং সামনেও থাকবেন আশা করি।’

ঘরোয়া অঙ্গনে সাফল্যের পর এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর দিয়েছেন ইমরানুর। জানুয়ারিতে ঘরোয়া জাতীয় প্রতিযোগিতার পর এপ্রিলে দক্ষিণ এশীয় গেমস অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশের হয়ে সোনা জেতাই তাঁর বড় লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এসএ গেমসের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি এবং ইনশা আল্লাহ আমরা একসঙ্গে দারুণ কিছু করব।’