তাঁর নিজের পছন্দ তিন নম্বর পজিশন। ক্রিকেটের মতো দলীয় খেলায় নিজের পছন্দটা পরে আসে। সবার আগে এখানে দেখা হয় দল। ভারত দলে তিলক বর্মাকে সে কারণেই খেলতে হয় ৬–৭ নম্বরে। মানে ফিনিশার হিসেবে। দলের কারণে ফিনিশার হয়ে এই পজিশনটা যেন নিজের করে নিয়েছেন তিলক। সেটা ভারতের হয়ে হোক বা স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতে অন্য দলের হয়ে হোক।
একটা পরিসংখ্যানে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হবে। তিলক টি–টুয়েন্টিতে রান তাড়া করতে নেমে যতবার অপরাজিত থেকেছেন, প্রতিবারই তাঁর দল জিতেছে। এমন ইনিংস খেলার সংখ্যাও কম নয়—২৬। ছেলেদের টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ায় অপরাজিত থেকে শতভাগ জয়ের রেকর্ডে সবার ওপরে তিলক। ২৩ ইনিংস নিয়েই এরপরই আছেন নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল।
দুর্ভাগ্যের কারণেই এই রেকর্ডে সবার ওপরে থাকা হয়নি ইংলিশ ব্যাটসম্যান জেমস ভিন্সের। ভিন্স রান তাড়ায় যে ৩১ বার অপরাজিত ছিলেন, সেই ৩১ ম্যাচে হারেনি তাঁর দল। তবে একটি ম্যাচে ফল না হওয়ায় শতভাগ জয়ের রেকর্ডে জায়গা হয়নি ভিন্সের।
কাল হ্যাগলি ওভালে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৮১ রান। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে দল। ১১তম ওভারে তিলক যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, স্কোরবোর্ডে ভারতের সংগ্রহ ৬৯ রান, উইকেট নেই চারটি। উইকেট ছিলও ধীরগতির। বলও ব্যাটে আসছিল না ঠিকমতো। এমন পরিস্থিতিতে একটু ভুল মানেই বড় বিপদ।
তিলক ভুল করেননি। ইনিংসের প্রথম ১৩ বলে তিনি রান করেছেন মাত্র ১৭। মানে উইকেট বোঝার চেষ্টা করেছেন। পরের ১৩ বলে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৩৪, সব মিলিয়ে করেছেন ২৬ বলে অপরাজিত ৫১। দলকে জেতান ১ বল হাতে রেখে। ভারতের হয়ে হয়ে সফল রান তাড়ায় ৬ বা এর পরে নেমে ফিফটি করা প্রথম ব্যাটসম্যানও তিলক।
চাপের মুখে ব্যাটিংয়ের এই ক্ষমতা তিলকের জন্য নতুন নয়। গত এক বছরে ভারতের হয়ে এমন বেশ কয়েকটি পরিস্থিতিতে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন তিনি। কঠিন রান তাড়ায় দলের দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাসও গড়ে উঠছে তাঁর। ক্রাইস্টচার্চে সেই দক্ষতার আরেকটি পরীক্ষা দিলেন।
তবে কাজটা সহজ ছিল না। নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তাঁর বোলিং সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছিল ভারত। ১১২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের পাল্লা তখন স্বাগতিকদের দিকেই ভারী।
এমন সময় তিলকের প্রয়োজন ছিল নিজের ওপর আস্থা রাখা। সেই আস্থা জুগিয়েছিলেন দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক।ম্যাচ শেষে তিলক বলেন, ‘গৌতম স্যার ও কোটাক স্যার আমাকে বলেছেন, পুরো ভারত তোমার ওপর বিশ্বাস রাখে। আমি যদি শেষ পর্যন্ত ব্যাট করি, তাহলে আমরা জিততে পারব।’
কথাগুলো মনে রেখেই এগিয়েছেন তিলক। তাঁর লক্ষ্য ছিল শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকা। সুযোগ বুঝে রান তোলা। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা। সেটাই তিনি করেছেন।