সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। আজ সন্ধ্যায় পুনরায় সচল করা হয়েছে ব্যাংক দুটির ওয়েবসাইট। তবে ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ব্যাংক দুটির নিয়মিত কার্যক্রম এবং গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন জনতা ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়। এর পরপরই জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইটগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। আজ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট পুনরায় চালু হলেও সারা দিন এই দুই ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ ছিল। ওয়েবসাইটগুলোতে একটি নোটিশ প্রদর্শিত হচ্ছিল, যাতে উল্লেখ করা হয়, রক্ষণাবেক্ষণের কার্যক্রম চলছে এবং খুব শীঘ্রই ওয়েবসাইট চালু হবে। এই সাময়িক অসুবিধার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করেও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না, অবশেষে সন্ধ্যায় ওয়েবসাইট দুটি পুনরায় সচল দেখা যায়।

এদিকে সন্ধ্যায় জনতা ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের প্রধান প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাড়তি নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।” পরবর্তীতে তা পুনরায় সচল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও ছুটির দিনগুলোতে অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংকের ওয়েবসাইটগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে এসব ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সচল করা হয়েছে। সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। ফলে গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।