নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্থানীয় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার লড়াইয়ের জেরে কামরুল হাসান (২৪) নামের এক তরুণকে গুলি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নেওয়াজপুর গ্রামের ওক্কাছ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এই দুঃসাহসিক ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ কামরুল ওই গ্রামের মো. ইউছুফের ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন দরজি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলাইয়াপুর ইউনিয়নে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দুটি গ্রুপ রয়েছে, যারা ‘রুবেল গ্রুপ’ ও ‘হারুন গ্রুপ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। রুবেল গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্য সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। তবে কয়েক দিন আগে তাঁরা জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় এলাকায় ফিরে আসেন। গতকাল বিকেলে তাঁদের কয়েকজনসহ রুবেল গ্রুপের সদস্যরা মোটরসাইকেলে করে এসে কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ কামরুল এলাকায় হারুন গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
গুলির শব্দ শুনেই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত পালিয়ে যান অস্ত্রধারীরা। তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় তাঁদের একজন একটি মোটরসাইকেল ফেলে যান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত কামরুলকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর বুকের ডান পাশে এবং ডান হাতের বাহুতে গুলির আঘাত লেগেছে।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুল কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রুবেল ও হারুন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত শুক্রবারও এ দুই গ্রুপের মারামারি হয়েছিল। এর জের ধরে গতকাল বিকেলে রুবেল গ্রুপের অনুসারীরা কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজনের ধাওয়ায় হামলাকারীরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে চলে যান। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”