ডেঙ্গু এখন আর কেবল ঢাকা কিংবা বড় শহরগুলোর সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামাঞ্চলেও। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বর্তমান ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় প্রতিরোধের বিকল্প পথ হিসেবে টিকাদান কর্মসূচিকে জাতীয় কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমদ। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে 'কিউডেঙ্গা' টিকা সংগ্রহ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে তা সরবরাহের বিষয়টি আলোচনায় আনা যেতে পারে। মুক্তকণ্ঠের জন্য এই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পার্থ শঙ্কর সাহা।

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার যেভাবে বাড়ছে, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বে-নজীর আহমদ বলেন, "এবারের পরিস্থিতিতে দুটি বিষয়ে ভিন্নতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। প্রথমত, বছরের প্রথম ভাগে—অর্থাৎ জুনের আগপর্যন্ত—ডেঙ্গুর রোগী তেমন ছিল না। এর একটি কারণ হলো, ওই সময় বৃষ্টিপাতও তেমন হয়নি। কিন্তু জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই কয়েক মাসে রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এবার অল্প সময়ে এডিস মশার ব্যাপক প্রজনন হয়েছে। এত কম সময়ে এত বেশি রোগী হওয়ার পেছনেও এডিস মশার এই ব্যাপক প্রজনন কাজ করেছে। অর্থাৎ, অল্প সময়ে এডিস মশার প্রজনন অনেক বেড়েছে, যার কারণে রোগীর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। এটিই এবারের পরিস্থিতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, কয়েক বছর ধরে ঢাকার বাইরের শহরগুলোয় ডেঙ্গু ছড়ানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা এখন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ঢাকার বাইরে শহরগুলোয় ডেঙ্গু প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে; এমনকি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। এবার দেখা যাচ্ছে, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের তুলনায় ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা—দুটিই বেশি। অর্থাৎ রাজধানীতে ডেঙ্গু আর সীমাবদ্ধ নেই; ঢাকার বাইরের শহর ও গ্রামেও এর বিস্তার দেখা যাচ্ছে।"

ডেঙ্গু কেন এখন গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর সাথে মানুষের চলাচল ও শনাক্তকরণের সম্পর্ক কী, সে বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, "ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা এখন অনেক বিস্তৃত। মানুষ নিয়মিত ঢাকা থেকে বাড়িতে যাচ্ছে, আবার বাড়ি থেকে ঢাকায় আসছে। বাস, ট্রেন, স্টিমার ও লঞ্চে মানুষের এই যাতায়াতের সঙ্গে এডিস মশাও বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। আগে এডিস মশা মূলত ঢাকা শহরে সীমাবদ্ধ ছিল; এখন তা সারা দেশে, এমনকি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য তিনটি বিষয় লাগে—জীবাণু, মানুষ ও পরিবেশ। ঢাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কেউ বাড়ি গেলে তাঁর শরীরে ভাইরাস থাকে। সেখানে এডিস মশা তাঁকে কামড়ালে মশার মধ্যে ভাইরাস ছড়ায়। সেই মশা পরে অন্য কাউকে কামড়ালে তাঁরও সংক্রমণ হতে পারে। দেশের আবহাওয়াও এডিস মশার প্রজনন ও ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ানোর অনুকূল।"

শনাক্তকরণের বিষয়ে তিনি জানান, "এখন গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার হারও বেড়েছে। আগে সেখানে পরীক্ষা কম হতো। এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে, বেসরকারি হাসপাতালেও পরীক্ষা হচ্ছে। ফলে আগে যাঁদের শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল, তাঁদের অনেকেই এখন শনাক্ত হচ্ছেন। মশা ও মানুষের চলাচল, অনুকূল পরিবেশ এবং পরীক্ষার সুযোগ—সব মিলিয়েই গ্রামাঞ্চলে রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে।"

ভাইরাসের ধরন বা মিউটেশন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বে-নজীর আহমদ বলেন, "ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ আছে—ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। এর বাইরে নতুন কোনো ধরন বাংলাদেশে এসেছে, এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এই চার ধরনের মধ্যে কোনো মিউটেশন হয়েছে কি না, সেটিও এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি। এটি বুঝতে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে হবে। কোন এলাকায় কোন সেরোটাইপে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তা জানতে সেরোটাইপিংয়ের সুযোগও বাড়ানো দরকার। এখন আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবি সীমিত পরিসরে এ ধরনের পরীক্ষা করছে। সংক্রমণ আছে এমন এলাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগকে এ কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিনে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। এতে নতুন কোনো ধরন এসেছে কি না, কিংবা বিদ্যমান সেরোটাইপে পরিবর্তন বা মিউটেশন হচ্ছে কি না, তা বোঝা যাবে।"

মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা সত্ত্বেও কেন মৃত্যু কমছে না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ঠিকভাবে হচ্ছে না। এর বড় কারণ কীটতাত্ত্বিক সক্ষমতার ঘাটতি। সারা দেশে কীটতত্ত্ববিদ আছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ জন। তাঁদের বেশির ভাগই যেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ হচ্ছে, সেখানে নেই। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কীটতত্ত্ববিদ, কীটতাত্ত্বিক সহকারী ও টেকনিশিয়ান প্রায় নেই বললেই চলে। এসব জনবল ছাড়া মশা ধরা, লার্ভা শনাক্ত করা এবং মশার ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব নয়।"

তিনি ল্যাবরেটরির অভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, "মশা ধরার যন্ত্রপাতি, মাইক্রোস্কোপ এবং মশার মধ্যে ভাইরাস আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য কার্যকর কীটতাত্ত্বিক ল্যাবরেটরিও দরকার। দেশে এ ধরনের কার্যকর ল্যাবরেটরি নেই বললেই চলে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কার্যকর ল্যাবরেটরি আছে। ঢাকায় আধুনিক ল্যাবরেটরি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ; সেটি চালু হতে আরও তিন থেকে চার বছর লাগতে পারে।"

বর্তমান কর্মসূচির অকার্যকারিতা নিয়ে তিনি বলেন, "মশা নিয়ন্ত্রণে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর অনেকগুলোও কার্যকর নয়। রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া বা পাতা কুড়ানোকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে দেখানো হচ্ছে। শুধু ফগিং করেও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে লার্ভিসাইডিং এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঢাকায় গত ২৬ বছরেও ফগিং সফল হয়নি।"

সঠিক বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মানুষকে সঠিক বার্তা দিতে হবে। এডিস মশা কৃত্রিমভাবে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে প্রজনন করে। যেখানে পানি জমে আছে, তা সরিয়ে ফেলতে হবে। বড় পাত্র, যেমন চৌবাচ্চা বা পানির ড্রাম সরানো না গেলে সেখানে লার্ভিসাইডিং করতে হবে। সঠিক পদ্ধতি না নিলে জনসম্পৃক্ততাও কার্যকর হবে না।"

টিকার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "টিকা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই খুব বড় ভূমিকা রাখবে, এমন নয়। বিশ্বের কোনো দেশেই এখন পর্যন্ত টিকা দিয়ে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে আমরা এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না, আর ডেঙ্গু গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে—যেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আরও কম। তাই সম্ভাবনা সীমিত হলেও বিকল্প ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। টিকা সেই বিকল্পগুলোর একটি। এ পর্যন্ত যে টিকাটি বিভিন্ন দেশে মোটামুটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি কিউডেঙ্গা। এটি শতভাগ কার্যকর নয়। তবু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকা দিয়ে কিছুটা হলেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তাই বাংলাদেশের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কৌশলে টিকাকে যুক্ত করা দরকার।"

কিউডেঙ্গা টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি জানান, "বিভিন্ন গবেষণা এবং ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ায় টিকা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, কিউডেঙ্গা সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তি কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে কার্যকর। এ ক্ষেত্রে কার্যকারিতা ৭০ থেকে ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি টিকা ব্যবহার করা গেলে প্রতিরোধে এর ভূমিকা থাকতে পারে।"

সেরোটাইপ অনুযায়ী কার্যকারিতার পার্থক্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কিউডেঙ্গার কার্যকারিতা এক নয়। সেরোটাইপ-২ ভাইরাসকে ভিত্তি করে টিকাটি তৈরি হয়েছে। ডেন-১ ও ডেন-২-এর বিরুদ্ধে এটি বেশি কার্যকর; ডেন-৪-এর বিরুদ্ধেও কার্যকর। তবে ডেন-৩-এর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা কম। আগে কোনো একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হয়েছেন—এমন ব্যক্তিকে টিকা দিলে ডেন-৩-এর বিরুদ্ধেও টিকাটি ভালো কার্যকর হতে পারে। কিন্তু আগে কখনো ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি, এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ডেন-৩-এর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা না-ও থাকতে পারে। তাই কোন এলাকায় কোন সেরোটাইপ ছড়াচ্ছে, তা জানতে সেরোটাইপিং ও নজরদারি জোরদার করা দরকার। এই তথ্যের ভিত্তিতে কোথায় টিকা দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।"

টিকার উপযোগী বয়স ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন নিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের কিউডেঙ্গা দেওয়া যায়। তবে আমার মতে, ৬০ বছর বয়স পর্যন্তও এই টিকা দেওয়া যেতে পারে। আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তার ওপর টিকার কার্যকারিতায় পার্থক্য আছে। আগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডেন-৩-এর বিরুদ্ধেও টিকা ভালো কাজ করতে পারে; আগে আক্রান্ত হননি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ সেরোটাইপের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা কম হতে পারে। বাংলাদেশে টিকা দেওয়ার আগে কোন এলাকায় কোন সেরোটাইপ ছড়াচ্ছে, তা জানতে সেরোটাইপিং ও সেরোসার্ভিলেন্স জোরদার করা দরকার। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।"

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, "এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। জাপান বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে; স্বাস্থ্য খাতেও তাদের আগ্রহ আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের আলোচ্যসূচিতে ডেঙ্গুর টিকার বিষয়টি যুক্ত করা যেতে পারে। জাপানে বছরে প্রায় ৬০ লাখ ডোজ টিকা তৈরি হয়। ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ অনেক দেশ টিকার ক্রেতা। ফলে সরবরাহ সীমিত। প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বিষয়টি উঠলে ওই উৎপাদন থেকে বাংলাদেশ কিছু টিকা পেতে পারে।"

টিকার দাম ও সরবরাহের বাধা নিয়ে তিনি বলেন, "দামও একটি বড় বাধা। দুই ডোজের টিকায় জনপ্রতি প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগতে পারে। তাই প্রথমে সীমিত পরিসরে বিনা মূল্যে কিছু টিকা এবং পরে প্রতিবছর সাশ্রয়ী দামে টিকা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি যুক্ত করার জন্য যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রস্তাব দিতে পারে। জাপানের কাছে টিকা চাওয়া অযৌক্তিক হবে না; বাংলাদেশের টিকা পাওয়ার সম্ভাবনাও আছে।"

টিকা দেওয়ার অগ্রাধিকার ও অন্যান্য পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না। টিকার সরবরাহ সীমিত, আর দামও বেশি। তাই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে টিকা দিতে হবে। প্রতিবছর ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর আগে, এপ্রিল-মে মাসের দিকে, জরিপ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে। ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া যেতে পারে। এতে ওই বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ কমলে তাঁদের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সীমিত পরিসরে টিকা দেওয়া যেতে পারে। টিকা দেওয়ার ছয়-সাত দিন পর থেকে এর কার্যকারিতা শুরু হবে। এরপর ওই এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি কমছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও নজরদারির মাধ্যমে দেখতে হবে। ঝুঁকি কমলে কর্মসূচি বড় পরিসরে নেওয়া যেতে পারে।"

পরিশেষে তিনি বলেন, "টিকার পাশাপাশি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণও চালিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসাব্যবস্থার প্রস্তুতিও জরুরি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রতিবছর ডেঙ্গু চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দিতে হবে, কারণ চিকিৎসকদের বদলি হয়। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এনএস১ পরীক্ষা এবং আইসিটি পদ্ধতিতে আইজিএম ও আইজিজি শনাক্তের কিট রাখতে হবে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও অন্যান্য সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত আছে কি না, এপ্রিল থেকেই তা যাচাই করে বাফার স্টক রাখতে হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কীটতাত্ত্বিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।"