নওগাঁ জেলার বদলগাছীতে জমি ও পুকুর সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের মাছ লুট এবং পুকুরমালিককে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় এক গ্রামপুলিশ সদস্যসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের চকতাল গ্রামের resident শহিদুল ইসলাম (৫৫) এবং তার ভাতিজা হাসান (২২)। জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম ওই কোলা ইউনিয়নেই গ্রামপুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে জানা যায়, কোলা ইউনিয়নের ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমানের পুত্র মো. আবু কালাম আজাদ (৪২) ঝাড়ঘরিয়া মৌজায় নিজের অধিকৃত ৯৭ শতক জমিতে একটি পুকুর খনন করে দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। এই জমি ও পুকুরটি নিয়ে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান ছিল।

এজাহারে বিস্তারিত অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে গ্রামপুলিশ শহিদুল ইসলামের নির্দেশে ১৩ জন নামীয় এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি লাঠি, দেশীয় অস্ত্র, হাঁসুয়া ও বেড় জাল নিয়ে ওই পুকুরে প্রবেশ করেন। তারা পুকুর থেকে ২৫ থেকে ৩০ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে একটি ভটভটিতে করে নিয়ে যান। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, লুট হওয়া ওই মাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পুকুরমালিক আবু কালাম আজাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা এই লুটপাটে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সেই সময় শহিদুল ইসলাম আবু কালাম আজাদের গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার সকালে আবু কালাম আজাদ বাদী হয়ে বদলগাছী থানায় মামলা দায়ের করেন।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এই বিষয়ে জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশি অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।