হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা শাহ তপুর একটি ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় ধারণ করা ওই ভিডিওর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের গাফিলির অভিযোগে ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী এবং কনস্টেবল আফসানা মিমিকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নবীগঞ্জ থানার এসআই আসিফের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শাহ তপুসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর শাহ তপুকে নবীগঞ্জ থানার হাজতে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, হাজতে থাকা অবস্থায় তার সহযোগী শাহ জুয়েল কৌশলে শাহ তপুর একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে শাহ তপুকে “জয় বাংলা”, “জয় বঙ্গবন্ধু”সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে এবং বক্তব্য দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনাটি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ত্রুটি হিসেবে সামনে এসেছে। পুলিশের কড়া হেফাজতে থাকা অবস্থায় কীভাবে একজন আসামি ভিডিও ধারণ করতে পারলেন, সেই মুহূর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা কোথায় ছিলেন এবং হাজতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শিথিল ছিল— তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এই চরম গাফিলির দায়ে ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও কনস্টেবল আফসানা মিমিকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন এই বিষয়ে জানান, “থানার হাজতখানার মতো স্পর্শকাতর স্থানে অবৈধভাবে ভিডিও ধারণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও কনস্টেবল আফসানা মিমিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”