স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক, সেটি তারাও চান। কারণ দেশের সাধারণ মানুষ তার বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মীর শাহে আলম বলেন, “মাঝেমধ্যেই হুমকি দেওয়া হয়, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন। কারণ, দেশের মানুষ তার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে। কিন্তু তার আর দেশে ফেরা হয় না। অন্যদিকে তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন কোটি কোটি মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এটাই জনগণের ভালোবাসা আর জনসমর্থনের পার্থক্য।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইতিহাস কখনোই মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং সত্যকে আড়াল করে রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যত চেষ্টাই করুক না কেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সেই ঐতিহাসিক সত্যকে পরিবর্তন করা যাবে না। পাশাপাশি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু আপসহীন ছিলেন এবং তার সেই দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থান কেউ বদলে দিতে পারবে না বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি যুগে যুগে তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা অত্যন্ত গর্বের সাথে বলতে পারেন যে, তারা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনৈতিক দলের কর্মী। জনগণের ভালোবাসা এবং আস্থাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, “আমরা বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামী বড় বড় কথা বললেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে যারা অতীতে জামায়াতকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের বিএনপির পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন প্রতিমন্ত্রী।