প্রায় দুই মাস পর আবারও নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত ৮টার সময় দেশটির কাছ থেকে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট থেকে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

বাংলাদেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড পিএলসি-র একটি সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ১৫ জুন থেকে নেপাল বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী নেপালের কথা ছিল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। তবে গত ২৭ আগস্ট নেপালে এক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বন্ধ হয়ে যায়। আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়েছে, যার ফলে রাত ৮টা থেকে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমেই নেপালের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়। গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোটেকোশি নদী এলাকায় আঘাত হানা এক ভয়াবহ বন্যায় সেখানকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং ২৮ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রথম নেপালের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসা শুরু হয়।

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে থাকে। তবে বন্যার কারণে তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে গিয়েছিল। বর্তমানে এই রপ্তানির পরিমাণ আবারও বাড়ছে।

দীর্ঘ বছর ধরে, বিশেষ করে শুষ্ক শীতকালীন মাসগুলোতে নেপাল বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে বর্তমানে দেশটি নিজেকে একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেপালে আঘাত হানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটিয়েছিল।