জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকায় রিকশাচালক হাফিজুল শিকদারকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

দুই দিনের রিমান্ড শেষে দীপু মনিকে আদালতে হাজির করে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক রিদুয়ানুল হক তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত এই মামলায় দীপু মনির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত রিমান্ড কার্যকর করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন দাখিল করেন।

আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে গত বুধবার দীপু মনিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শেষ করে শুক্রবার তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এরপরই আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর বাড্ডার প্রগতি সরণি এলাকায় অটোরিকশাচালক হাফিজুল শিকদার (২৮) যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ওই বছরের ২১ আগস্ট হাফিজুলের বাবা মো. আবুবকর শিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। বাড্ডা থানায় করা ওই মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।