রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা ব্যক্তিদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং নেতাকর্মীদের বসতবাড়ি ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চট্টগ্রামে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম শহরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ‘বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)’ এবং ‘গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম’-এর চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছিল।

মূল সমাবেশের আগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সবশেষে মিছিলটি পুনরায় চেরাগী পাহাড় মোড়ে এসে পৌঁছায় এবং সেখানে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা শুভ চাকের সভাপতিত্বে এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চাকমার সঞ্চালনায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য প্রদান করেন পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক শান্ত চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য রেশমী মারমা এবং পিসিপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার সভাপতি সুদর্শন চাকমা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাজেকে তৃতীয় শ্রেণির এক ত্রিপুরা শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা ৩ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনী সেখানে এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করে, যার ফলে ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিবর্গের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও তারা দাবি জানান।

পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক শান্ত চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, “পাহাড়ের জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে সবসময়ই বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সন্ত্রাসী কাজ হিসেবে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের অঘোষিত সেনাশাসনের ফলেই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।”

তিনি ইউপিডিএফ-এর পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, “এ দাবির প্রতি দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীদেরও সমর্থন ছিল।” পাহাড়িদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

চবি পিসিপি সভাপতি সুদর্শন চাকমা বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবারই প্রতিবাদ ও সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সাজেকের স্থানীয় পাহাড়িরা কোনো অপরাধী নন; তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এ ধরনের হামলাই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী রেশমী মারমা পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পাহাড়ি নারী নির্যাতন, ভূমি বেদখল ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দেন।

সভাপতির বক্তব্যে শুভ চাক বলেন, “সাজেককে কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখলে চলবে না। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।”

সমাবেশের মাধ্যমে সাজেকে সাধারণ জনগণের ওপর লাঠিচার্জ ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং সাজেকবাসীর উত্থাপিত ৩ দফা দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়।