ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিকটবর্তী এলাকায় এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আগামীকাল শনিবার ফ্রান্সে দেশব্যাপী বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে, তার ঠিক আগের দিন এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটল। তবে পরিকল্পিত এই বিক্ষোভের সাথে বর্তমান হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ইয়োলো ভেস্ট আন্দোলনকারী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলো এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভ দমনে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক শহরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান ল্যকরনু জানিয়েছেন, প্যারিসের পশ্চিমে ট্রাপেস এলাকায় ‘অত্যন্ত গুরুতর ঘটনাটি’ ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
সংবাদ সংস্থা এএফপি পুলিশের সূত্র ধরে জানিয়েছে, আজ শুক্রবার এক ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থলে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালান। পরবর্তীতে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী আরেক শহর কোইনিয়ার্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান ল্যকরনু আরও জানান, ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেররিজম প্রসিকিউটর অফিস পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রথমে প্রতিবাদ শুরু করে। পরবর্তীতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার মান অবনতির মতো নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে এই আন্দোলন বিস্তৃত হয়, যার ফলে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ এতে যুক্ত হন। আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে দেশটির বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, আর এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে সরকার ও বিরোধী দলগুলো একে অপরের ওপর সহিংসতার দায় চাপাচ্ছে।