শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশব্যাপী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার এক অভিনব ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। ডিজিটাল নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় এক নতুন ধারা তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ (২২ অক্টোবর) এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’এর মাধ্যমে এবার ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী আনসার-ভিডিপি সদস্য (End User) হিসেবে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছে, নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত পূজামণ্ডপ থেকে কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার তথ্য তারা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে রিপোর্ট করেন। এর ফলে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, গুজব ও সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে পূজা উদযাপন কমিটি, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, এসআরবি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান সহজ হয়।
কেবল অ্যাপ নয়, জনবল নিয়োগ ও মোতায়েনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, এভিএমআইএস (AVMIS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সঠিক সদস্য নির্বাচন এবং এসটিডিএমএস (STDMS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই সমন্বিত ব্যবহারের ফলে সদস্যদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দায়িত্ব পালনের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এই পরিবর্তনকে চলমান সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মহাপরিচালকের দেওয়া দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে বাহিনীর সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম ও মিডিয়া শাখা থেকে শুরু করে রেঞ্জ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের সদস্য-সদস্যাদের সমন্বিত তৎপরতা দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও সুসংহত ও গতিশীল করেছে বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্বচ্ছ জনবল নির্বাচন, সুশৃঙ্খল মোতায়েন এবং মাঠপর্যায়ের তাৎক্ষণিক সাড়াদানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ নিরাপত্তাব্যবস্থা ভবিষ্যতের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনসহ বৃহৎ জনসমাগমপূর্ণ আয়োজনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হবে।