হিন্দি সিনেমায় কাদের খানকে মনে করলে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে গোবিন্দর সঙ্গে তাঁর হাস্যরসাত্মক দৃশ্য, গম্ভীর মুখে বলা মজার সংলাপ কিংবা অমিতাভ বচ্চনের ছবিতে তাঁর লেখা নাটকীয় সংলাপ। কখনো তিনি ধনী ব্যবসায়ী, কখনো কঠোর বাবা, কখনো দুর্নীতিবাজ ভিলেন, আবার কখনো এমন এক মানুষ, যাঁর উপস্থিতিতেই হাসিতে ফেটে পড়ত প্রেক্ষাগৃহ। কিন্তু পর্দায় পরিচিত এ মানুষটির জীবন ছিল অনেক বেশি কঠিন, অনেক বেশি নাটকীয়।

একসময় মুম্বাইয়ের কামাথিপুরার বস্তিতে দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন তিনি। পরিবারের এমন দিনও গেছে, যখন সপ্তাহে তিন দিন পেটে খাবার জুটত না। অভাবের কারণে একসময় ভেবেছিলেন, পড়াশোনা ছেড়ে কাজ করবেন। অথচ মায়ের অনুপ্রেরণায় পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। চাকরি নেন প্রকৌশল কলেজে শিক্ষক হিসেবে। সেই শিক্ষকই একসময় হয়ে ওঠেন হিন্দি সিনেমার অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা।

আজ ২২ অক্টোবর কাদের খানের জন্মদিন। ১৯৩৭ সালের এই দিনে আফগানিস্তানের কাবুলে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৮১ বছর বয়সে মারা যান। কামাথিপুরার কঠিন শৈশব

কাদের খানের জন্ম আফগানিস্তানের কাবুলে। তাঁর বাবা আবদুর রহমান খান ছিলেন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি। মা ইকবাল বেগমের আদি নিবাস ছিল বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলে। শৈশবেই পরিবারের সঙ্গে ভারতে চলে আসেন কাদের।

শৈশবটা কাদের খানের সহজ ছিল না। মা–বাবার বিচ্ছেদ, সংসারে অভাব ও পারিবারিক অশান্তির মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে তাঁকে। কাদের খান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে সপ্তাহে তিন দিন খাবার জুটত না। দারিদ্র্যের কারণে একসময় তাঁর মনে হয়েছিল, আর পড়াশোনা নয়, কাজ করে সংসারে সাহায্য করতে হবে।কিন্তু কাদের খানের মা অন্য কথা ভেবেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, ছেলেকে দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বের করে আনার সবচেয়ে কার্যকর পথ শিক্ষা। তাই অভাবের মধ্যেও কাদেরের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি। মায়ের সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তী জীবনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

কামাথিপুরার জীবন কাদেরকে শুধু দারিদ্র্য দেখায়নি, দেখিয়েছে মানুষের নানা রূপ। একই জায়গায় যেমন ছিল অসহায়ত্ব, তেমনি ছিল বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা; ছিল প্রতারণা, ভালোবাসা, নিষ্ঠুরতা, আবার অপ্রত্যাশিত মমতাও। পরবর্তী সময়ে তাঁর লেখা চরিত্র ও সংলাপে সাধারণ মানুষের জীবনবোধ, ক্ষোভ এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ের যে ছাপ দেখা যায়, তার পেছনে শৈশবের এসব অভিজ্ঞতার ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে লেখালেখি করা অনেকে।

শিক্ষকতা দিয়ে শুরু, অভিনয়ের স্বপ্নকাদের খান পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ইসমাইল ইউসুফ কলেজে পড়াশোনার পর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে মুম্বাইয়ের এম এইচ সাবু সিদ্দিক কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতেন।

একজন প্রকৌশল শিক্ষকের জীবন হয়তো তাঁকে আর্থিক স্থিতি দিতে পারত। কিন্তু তাঁর ভেতরে তখন অন্য এক আকাঙ্ক্ষা দানা বাঁধছে। ছোটবেলা থেকেই নাটক ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। সুযোগ পেলেই মঞ্চে অভিনয় করতেন, নাটক লিখতেন, সংলাপ নিয়ে ভাবতেন।

একটি স্মরণীয় ঘটনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাড়ির কাছাকাছি একটি ইহুদি কবরস্থানে গিয়ে তিনি একা একা সংলাপ বলতেন, অভিনয়ের অনুশীলন করতেন। তাঁর দর্শক বলতে যেন কবরের নীরব বাসিন্দারাই। একদিন সেখানে তাঁর অভিনয় লক্ষ করেন অভিনেতা আশরাফ খান। কাদেরের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার গল্পটিও তাঁর জীবনের শুরুর দিকের বহুল আলোচিত কাহিনিগুলোর একটি।

তবে মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রে পৌঁছানোর পথটি এক দিনে তৈরি হয়নি। শিক্ষকতার পাশাপাশি নাটক লেখা ও অভিনয় চালিয়ে গেছেন তিনি। সেই সময়ের নাট্যচর্চাই তাঁকে সংলাপ নির্মাণের কৌশল, চরিত্রের ভাষা ও দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা শিখিয়েছিল।

প্রথম সুযোগ, তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নিকাদের খানের চলচ্চিত্রজীবনের শুরুটা হয়েছিল লেখক হিসেবে। ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জওয়ানি দিওয়ানি’ ছবিতে সংলাপ লেখার সুযোগ পান তিনি। ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন রণধীর কাপুর ও জয়া ভাদুড়ি। মঞ্চে তাঁর কাজ দেখে প্রযোজক রমেশ বহল তাঁকে এই সুযোগ দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।কাদের খান নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, চলচ্চিত্রের সংলাপ লেখার অভিজ্ঞতা তখন তাঁর ছিল না। তবু তাঁকে বলা হয়েছিল, নাটকে যেভাবে লেখেন, সেভাবেই লিখতে। সেই বিশ্বাসের ওপর ভর করেই কাজে নেমে পড়েন তিনি। প্রথম ছবির জন্য পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন দেড় হাজার রুপি।

এরপর ‘খেল খেল মে’ ছবিতে কাজের সুযোগ আসে। পারিশ্রমিকও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রের নির্মাতারা বুঝতে পারেন, কাদের খানের সংলাপ লেখার ধরন আলাদা। তাঁর লেখায় ছিল নাটকীয়তা, রসবোধ, উর্দু ভাষার সৌন্দর্য এবং কথ্য ভাষার স্বাভাবিক প্রবাহ। চরিত্রের মুখে এমন সংলাপ বসাতে পারতেন, যা দর্শককে হাসাত, উত্তেজিত করত কিংবা আবেগাপ্লুত করে তুলত।

কাদেরের  প্রতিভার বড় স্বীকৃতি আসে প্রযোজক-পরিচালক মনমোহন দেশাইয়ের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে। দেশাইয়ের বাণিজ্যিক ছবিতে সংলাপ ছিল বিনোদনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। সেখানে কাদের খানের ভাষা ও নাটকীয়তা দারুণভাবে মানিয়ে যায়। ‘রোটি’ ছবিতে কাজের পর তাঁর পারিশ্রমিকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, এই ছবির জন্য পেয়েছিলেন প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রুপি—প্রথম ছবির দেড় হাজার রুপির তুলনায় যা ছিল বিশাল অগ্রগতি।

অমিতাভ বচ্চনের সংলাপে কাদের খানের জাদুসত্তরের দশক থেকে আশির দশক—হিন্দি সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের উত্থান ও জনপ্রিয়তার সময়। পর্দায় তাঁর গম্ভীর কণ্ঠ, তীব্র অভিব্যক্তি ও সংলাপ বলার ভঙ্গি দর্শকদের মুগ্ধ করত। সেই সংলাপের জগৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল কাদের খানের।

‘অমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দার’, ‘নসিব’, ‘লাওয়ারিস’, ‘শরাবি’, ‘কুলি’ ও ‘অগ্নিপথ’-এর মতো ছবিতে তাঁর লেখনী হিন্দি সিনেমার সংলাপনির্ভর বিনোদনের এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছিল। পরিচালক মনমোহন দেশাই ও প্রকাশ মেহরার সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্ক ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সেই সময়ের মূলধারার হিন্দি ছবিতে সংলাপ শুধু গল্প এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যম ছিল না। সংলাপের মধ্য দিয়ে নায়কের ব্যক্তিত্ব, প্রতিপক্ষের দম্ভ, প্রেমিকের আবেগ কিংবা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পেত। দর্শক অনেক সময় প্রেক্ষাগৃহে অপেক্ষা করতেন একটি নির্দিষ্ট সংলাপ শোনার জন্য। কাদের খান সেই প্রত্যাশা বুঝতেন।

‘মুকাদ্দর কা সিকান্দার’-এর মতো ছবিতে আবেগময় সংলাপ, ‘শরাবি’তে হাস্যরস ও নাটকীয়তা কিংবা ‘লাওয়ারিস’-এর মতো ছবিতে চরিত্রের স্বর—সব ক্ষেত্রেই তাঁর লেখার নিজস্বতা ছিল। কথ্য ভাষার সঙ্গে উর্দু কাব্যিকতার মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি এমন সংলাপ লিখতেন, যা একই সঙ্গে নাটকীয় ও স্মরণীয় হয়ে উঠত।

কাদের খানের কাজের একটি বিশেষ দিক ছিল, তিনি অভিনেতার ব্যক্তিত্ব বুঝে সংলাপ লিখতে পারতেন। অমিতাভ বচ্চনের গম্ভীর উপস্থিতির জন্য যেমন তীক্ষ্ণ ও নাটকীয় ভাষা প্রয়োজন হতো, অন্যদিকে কমেডির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতো দ্রুত সংলাপ, শব্দের খেলা ও পরিস্থিতিনির্ভর রসবোধ। কাদের খান দুই ধরনের লেখাতেই দক্ষ ছিলেন।

লেখক থেকে অভিনেতাকাদের খান শুধু সংলাপকার হিসেবে পরিচিত হতে চাননি। অভিনয়ের প্রতিও তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর। ১৯৭৩ সালে যশ চোপড়ার ‘দাগ’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ছবিতে রাজেশ খান্না ছিলেন প্রধান চরিত্রে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে থাকেন।

শুরুতে কাদের খানকে অনেক সময় নেতিবাচক চরিত্রে দেখা গেছে। ‘পরভারিশ’, ‘নসিব’সহ বেশ কিছু ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রে ছিল ক্ষমতা, দম্ভ ও নিষ্ঠুরতার ছাপ। তাঁর কণ্ঠের ভার, চোখের অভিব্যক্তি ও সংলাপ বলার দৃঢ়তা এসব চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত।

তবে কাদের খানকে কেবল ভিলেনের ভূমিকায় আটকে রাখা যায়নি। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক অভিনেতা। কখনো পরিবারের কর্তৃত্বপরায়ণ প্রবীণ, কখনো অর্থবান ব্যবসায়ী, কখনো বিপাকে পড়া বাবা, আবার কখনো হাস্যকর পরিস্থিতিতে আটকে যাওয়া এক সাধারণ মানুষ। চরিত্রের ধরন বদলালেও তাঁর অভিনয়ে থাকত স্বতন্ত্র ছাপ।

গোবিন্দর সঙ্গে হাসির দুনিয়ায়নব্বইয়ের দশকে কাদের খানের জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় অধ্যায় শুরু হয় গোবিন্দ ও পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে। এ সময়ের হিন্দি কমেডি ছবির কথা উঠলে ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’, ‘রাজা বাবু’, ‘হিরো নাম্বার ওয়ান’, ‘দুলহে রাজা’, ‘আঁখে’ ও ‘সাজন চলে সসুরাল’-এর মতো ছবির নাম সামনে আসে।

এই ছবিগুলোতে কাদের খান কখনো গোবিন্দর বাবা, কখনো ধনী ব্যবসায়ী, কখনো এমন এক মানুষ, যিনি নিজের পরিকল্পনার ফাঁদে নিজেই পড়ে যান। তাঁর গম্ভীর মুখের অভিব্যক্তি, দ্রুত সংলাপ বলার দক্ষতা ও গোবিন্দর কমেডির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনয় করার ক্ষমতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।

গোবিন্দর অভিনয়ে ছিল শরীরী ভাষার দ্রুত পরিবর্তন, নাচ, মুখভঙ্গি ও পরিস্থিতিনির্ভর হাস্যরস। কাদের খানের অভিনয় ছিল তুলনায় সংযত; কিন্তু তাঁর সংলাপ ও প্রতিক্রিয়া গোবিন্দর কমেডিকে আরও কার্যকর করে তুলত। দুজনের এই বৈপরীত্যই অনেক ছবির হাসির মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

পুরস্কার ও স্বীকৃতিকাদের খান ‘মেরি আওয়াজ সুনো’ ছবির জন্য ১৯৮২ সালে এবং ‘আঙ্গার’ ছবির জন্য ১৯৯৩ সালে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা সংলাপকারের সম্মান পান। ‘বাপ নম্বরি বেটা দশ নম্বরি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ১৯৯১ সালে ফিল্মফেয়ারে সেরা কমেডি অভিনেতার পুরস্কারও অর্জন করেন।২০১৯ সালে ভারতের সরকার কাদের খানকে মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। জীবদ্দশায় তাঁর কাজ যে স্বীকৃতি পেয়েছিল, এই সম্মান তারই আরেকটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

সাফল্যের আড়ালে দূরত্বকাদের খানের চলচ্চিত্রজীবন দীর্ঘ হলেও জীবনের শেষ পর্যায় ছিল অনেকটাই নিভৃত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাজের সুযোগ কমে আসে। শারীরিক অসুস্থতাও তাঁকে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

২০১৫ সালে ‘হোগয়া দিমাগ কা দহি’ ছবির ট্রেলার প্রকাশের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর অনেকেই তাঁকে আর কাজে নিতে চাননি। তিনি লেখক হিসেবে আবার ফিরতে চেয়েছিলেন; তাঁর মনে হয়েছিল, হিন্দি ছবির সংলাপের ভাষায় আগের দিনের স্বাদ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন আর সেভাবে ঘটেনি।অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে দূরত্বের কথা আলোচনায় আসে। একসময় তাঁরা একাধিক সফল ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। পরে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

অসুস্থতা, কানাডায় শেষ দিনজীবনের শেষ কয়েক বছরে কাদের খান কানাডায় ছেলের কাছে থাকতেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তিনি প্রগ্রেসিভ সুপ্রানিউক্লিয়ার পালসি নামের একটি স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগে ভুগছিলেন। এই রোগে চলাফেরা, ভারসাম্য রক্ষা ও শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কাজ ক্রমে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাঁর ডায়াবেটিসও ছিল।২০১৮ সালের শেষ দিকে শ্বাসকষ্টের কারণে কাদের খানকে কানাডার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৩১ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে