পাবনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতিসহ চার অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, একটি বিদেশি রিভলবার, ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি কার্তুজ এবং অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত নগদ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের আরও একজন সদস্য বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিস্তারিত তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রকিবুল হাসান ইবনে রহমান।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন পাবনা সদর উপজেলার চরঘোষপুর এলাকার আলাল শেখ (৫২), আমিনপুর থানার রামনারায়ণপুর এলাকার জলিল মণ্ডল (২৮), মিরপুর এলাকার বাবলু মণ্ডল (২৬) এবং ভাটিকয়া এলাকার জনি কাজী (২৮)। এদের মধ্যে আলাল শেখ হেমায়েতপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের রামনারায়ণপুর ও সুজানগর থানার নাজিরগঞ্জ বাজার এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রথম অভিযানে চরঘোষপুর এলাকা থেকে দুটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, আট চেম্বারবিশিষ্ট একটি বিদেশি বোরের রিভলবার, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং অস্ত্র বিক্রির নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযানে আরও দুটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

রকিবুল হাসান ইবনে রহমান বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগেও অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং আরও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।