বর্তমান সময়ে হাঁটুর ব্যথা কেবল বয়স্কদেরই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়ে নেই, বরং সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রভাবে অনেক মানুষই এখন হাঁটাচলা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা কিংবা দৈনন্দিন সাধারণ কাজকর্মে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সাধারণত ব্যথার উপশমে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং বিভিন্ন ধরনের ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। তবে এসব পদক্ষেপের পরও যখন ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন চিকিৎসকরা হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের আগে অথবা বিকল্প হিসেবে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের একটি আধুনিক পদ্ধতি হতে পারে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন, যা সংক্ষেপে আরএফএ (RFA) নামে পরিচিত।
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন পদ্ধতিটি মূলত একটি বিশেষ সুচের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এই সুচের সাহায্যে হাঁটুর ব্যথা বহনকারী নির্দিষ্ট স্নায়ুর কাছে পৌঁছে নিয়ন্ত্রিত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি প্রয়োগ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলে ওই নির্দিষ্ট স্নায়ুর ব্যথা পরিবহনের ক্ষমতা হ্রাস পায়, যার ফলে রোগীর ব্যথার অনুভূতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। হাঁটুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাধারণত জেনিকুলার নার্ভের নির্দিষ্ট শাখাগুলোকে লক্ষ্য করে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
যেসব রোগী দীর্ঘদিনের অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, প্রচলিত চিকিৎসায় যাদের পর্যাপ্ত উপকার মিলছে না এবং যারা বর্তমানে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত নন—এমন নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি যেসব রোগীর বয়স বেশি অথবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি অনেক বেশি, তাঁদের জন্য আরএফএ একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
তবে একটি বিষয় গুরুত্বের সাথে মনে রাখতে হবে যে, “রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (আরএফএ) হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টকে সারিয়ে তোলে না এবং এটি হাঁটু প্রতিস্থাপনের সরাসরি বিকল্পও নয়।” এই চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা কমিয়ে রোগীর হাঁটাচলা সহজ করা, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের সময়কে কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া।
আরএফএ কোনো বড় ধরনের অস্ত্রোপচার নয়, ফলে রোগী খুব দ্রুতই তার স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজে ফিরে যেতে পারেন। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, চিকিৎসার ফলাফল একেক রোগীর ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে; সবার ক্ষেত্রে ব্যথার উপশমের মাত্রা এক হয় না।
হাঁটুর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এখন রোগীর বয়স, রোগের তীব্রতা এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।