রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের কামদেব শেখপাড়ায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আফিজ, আকিব ও নিবিড় বিড়ির মালিক এবং মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির মালিক রমজান আলী জিকুরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের রেশ ধরেই ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলাকালীন হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

তবে এই ঘটনার পেছনে ভিন্ন কারণের কথা দাবি করেছেন মীর কাসেম মিঠু। তার দাবি, মর্নেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রমজান আলী জিকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু মারধরের শিকার হন। একই সময়ে বিএনপির কার্যালয়ে থাকা চেয়ার, ব্যানার ও ছবিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমীনসহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চাঁদ সরকার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”