সুইডেনভিত্তিক মর্যাদাপূর্ণ অধিকার পুরস্কার 'রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড' ২০২৬ সালের বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। বিশ্বজুড়ে বিকল্প নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত এই সম্মাননাটি অর্জনের জন্য বিশ্বের ৭২টি দেশ থেকে আসা ২০০টি মনোনয়নের মধ্য থেকে এবারের বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে। এই বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিশিষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক টিমনিট গেব্রু, যিনি ডিস্ট্রিবিউটেড এআই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিদ্যমান পক্ষপাতিত্বের প্রভাব নিয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

রাইট লাইভলিহুড ফাউন্ডেশন তাঁর এই অর্জনের বিষয়ে উল্লেখ করে জানিয়েছে, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে পুঞ্জীভূত ক্ষমতার চ্যালেঞ্জ জানানো, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রদূত হিসেবে কাজ করার জন্য তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে।” উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গুগলের এথিক্যাল এআই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের পক্ষপাতের ঝুঁকি নিয়ে একটি গবেষণাপত্র লিখেছিলেন। জুরিবোর্ডের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেই গবেষণাপত্রটি প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই গুগল তাঁকে বরখাস্ত করেছিল।

প্রযুক্তিগত নীতিশাস্ত্র প্রণয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং এর ভেতরের পক্ষপাতিত্ব দূর করার লড়াইয়ে টিমনিট গেব্রুর এই অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এআই ব্যবস্থার গভীরে লুকিয়ে থাকা পক্ষপাত এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজ করা গবেষকদের এই স্বীকৃতি প্রযুক্তি জগতের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক বিকাশ এবং মানবকল্যাণে এর সুফল নিশ্চিত করতে এ ধরনের সম্মাননা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলত প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে যৌথ প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কারে উপেক্ষিত অবদানের স্বীকৃতি দিতে ১৯৮০ সালে সুইডিশ-জার্মান সমাজসেবী জ্যাকব ফন উক্সকুল এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন। সাধারণত নোবেল পুরস্কার ঘোষণার প্রায় এক সপ্তাহ আগে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এবারের পুরস্কার তালিকায় পাকিস্তান থেকে স্থান পেয়েছেন আইনজীবী জলিলা হায়দার। জুরিবোর্ডের মতে, “হাজি সম্প্রদায়ের প্রথম নারী আইনজীবী হিসেবে জাতিগত, রাষ্ট্রীয় ও পিতৃতান্ত্রিক নিপীড়নকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।” এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রামীণ নারীদের সংগঠন 'রুরাল উইমেনস অ্যাসেম্বলি' এই পুরস্কার অর্জন করেছে। ১১টি আফ্রিকান দেশের ১ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র কৃষককে ঐক্যবদ্ধ করা এই সংগঠনটি করপোরেট ও পিতৃতান্ত্রিক প্রভাব থেকে জমি ও বীজ রক্ষা করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি জর্জিয়ার মানবাধিকার সংগঠন 'জর্জিয়ান ইয়াং লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন' (জিওয়াইএলএ) এই সম্মাননা লাভ করেছে। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটিকে জর্জিয়ার সমাজের এক নৈতিক কম্পাস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।