যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তিক্ততা ও টানাপোড়েন কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক সম্পর্কে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রিন্স হ্যারি। সম্প্রতি ব্রিটিশ সাময়িকী জিকিউ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এই আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন। হ্যারির প্রত্যাশা, ছয় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার ফলে বাবা রাজা চার্লস এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা খুব দ্রুতই ঘুচে যাবে।
রাজা চার্লসের কনিষ্ঠ পুত্র হ্যারি এবং তাঁর স্ত্রী মেগান তাঁদের দুই সন্তানের সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ২০২০ সালে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ত্যাগ করে এই দম্পতি ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ীভাবে চলে যান। সেখান থেকে রাজপরিবারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সদস্যদের নিয়ে তাঁদের করা সমালোচনা পরিবারে বড় ধরনের বিরোধের জন্ম দেয়। এই সংঘাতের ফলে দীর্ঘ কয়েক বছর বাবা রাজা চার্লস এবং বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে তাঁদের কোনো সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ ছিল না।
তবে সম্প্রতি রাজা চার্লস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেছেন হ্যারি। জিকিউ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে আগ্রহী। বর্তমান বিশ্বের নানা ঘটনার ভিড়ে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন। এই প্রসঙ্গে হ্যারি বলেন, “কেউ কেউ চান না সম্পর্ক ঠিক হোক। কিন্তু আমি চাই, সবকিছু ঠিক হয়ে যাক।”
সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশব এবং মায়ের প্রয়াণের কথা স্মরণ করেন হ্যারি। তাঁর বয়স যখন মাত্র ১২ বছর, তখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রিন্সেস ডায়ানা। মায়ের এই অকাল মৃত্যুর প্রভাব তাঁর জীবনে কতটা গভীর ছিল, তা বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে পুনরায় ফিরে আসার কারণ হিসেবে সন্তানদের শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন হ্যারি। তিনি জানান, সন্তানদের ব্রিটিশ স্কুলে পড়ানোর সুযোগ তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সন্তানরা গত দুই সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং তারা এই নতুন পরিবেশ বেশ উপভোগ করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন প্রিন্স হ্যারি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি উন্নত হবে। উল্লেখ্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এই চরম বিরোধই ছিল তাঁর যুক্তরাজ্য ত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ। বিভিন্ন সংবাদপত্রের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি একাধিক আইনি পদক্ষেপ ও মামলাও করেছেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, আশা করছেন পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।