ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের তৃতীয় রাউন্ডে বড় জয় তুলে নিয়েছে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ। খুলনার হয়ে কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নেমে অভিষেকেই ৫ উইকেট শিকার করেছেন বাঁহাতি স্পিনার রাকিব হাওলাদার। এছাড়া রাজশাহীর পেসার শফিকুল ইসলাম এবং সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদও ৫ উইকেট করে নিয়েছেন।
গতকাল সামিউন বাসীর কনকাশন ইনজুরির কারণে ‘লাইক টু লাইক’ বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পান ১৭ বছর বয়সী কিশোর রাকিব হাওলাদার। গতকালই ৪ উইকেট নিয়ে রান তাড়া করতে নামা চট্টগ্রামকে ১৭৪/৫ বানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আজ আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই ৫ উইকেটের কৃতিত্ব অর্জন করেন রাকিব, যার ফলে খুলনা ১০ রানের একটি দারুণ জয় পায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রাকিবের আগে সর্বশেষ বোলার হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ঢাকা মহানগরের অফ স্পিনার আশরাফুল ইসলাম।
অন্যদিকে, সিলেটে ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা চট্টগ্রামকে আজ চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে মেহেদী হাসান রানার বোলিংয়ে। এই বাঁহাতি পেসার তার ৪ উইকেটের মধ্যে ৩টিই পেয়েছেন আজ। তার শিকার হয়েছেন ৩৭ বলে ৪৬ রান করা চট্টগ্রাম অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরও। শেষ পর্যন্ত ২৬৪ রানেই অলআউট হয়ে গেছে চট্টগ্রাম।
তিন ম্যাচের দুটিতে জয়লাভ করে একটি বোনাস পয়েন্টসহ মোট ১৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে খুলনা।
বরিশালকে টানা তৃতীয় পরাজয়ের স্বাদ দিয়ে মৌসুমে প্রথম জয় পেয়েছে রাজশাহী বিভাগ। রাজশাহীতে মাত্র ৪৭ রানের লক্ষ্য পাওয়া স্বাগতিক দল ২ উইকেট হারিয়ে ১১ ওভারের মধ্যেই জয় নিশ্চিত করে। এর আগে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা বরিশালের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২৭৪ রানে। পাঁচ ওভারের মধ্যে বরিশালের শেষ চারটি উইকেট তুলে নিয়ে এই সংস্করণে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট পান রাজশাহীর বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলাম। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরিয়ান নাঈম আহমেদ।
তৃতীয় রাউন্ডে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে সিলেট বিভাগও। চট্টগ্রামে আজ রংপুরকে ১৭৩ রানে অলআউট করে ৩৭ রানের জয় registered করেছে দলটি। ৮ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা সিলেট আর মাত্র ২ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে যায়। দলের হয়ে ৯৪ রানে বোল্ড হন অমিত হাসান।
২১১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করতে নেমে রংপুর ২ উইকেটে ১০২ রান তুলতে সক্ষম হয়। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ রংপুরের ওপেনার অনীক সরকারকে (৫৫) আউট করে ব্যাটিং বিপর্যয়ের সূচনা করেন। নাসুম এই ম্যাচে ৫ উইকেট পান এবং অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ নেন ৪ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন নাঈম আহমেদ।
এদিকে, প্রত্যাশা অনুযায়ী ড্র হয়েছে ঢাকা ও ময়মনসিংহের মধ্যকার ম্যাচ। কক্সবাজারে ৯ উইকেটে ৩৪২ রান নিয়ে দিন শুরু করা ঢাকার প্রথম ইনিংস ৩৭৭ রানে শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৬৭ রান করে ময়মনসিংহ। দলটির ওপেনার আরিফুল ইসলাম ৯২ রানে আউট হওয়ার পর দুই দলই ম্যাচটি ড্র হিসেবে মেনে নেয়।