নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক শিমখেত থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত কিশোরের নাম মো. শাহেদ। সে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর নোমান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহেদের বাবা-মা অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং তারা বর্তমানে উপার্জনে অক্ষম। পরিবারের ভরণপোষণ ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব নিতেই দিনমজুরির কাজ করত কিশোর শাহেদ। আজ সকালে সে এক প্রতিবেশীর শিমখেতে কাজ করতে গিয়েছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খেতের মালিক সেখানে গিয়ে দেখেন, শাহেদ অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে এক পল্লীচিকিৎসক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং নিশ্চিত করেন যে শাহেদের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাশেদ উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, কিশোর শাহেদের মৃত্যুর পর থেকে তার মা হাসিনা বেগমের আহাজারি থামছে না। কিছুক্ষণ পরপর তিনি জ্ঞান হারাচ্ছেন। বাবা মো. খলিলও ছেলের শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটি ভদ্র ও নম্র হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল। তার মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে চর জব্বর থানার ছনখোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও উপপরিদর্শক (এসআই) আলী হোসাইন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সকালে বেশ গরম পড়েছে এলাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় ওই কিশোর স্ট্রোক করেছে। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।’ তিনি আরও জানান, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশটি দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’