দেশের নদী, খাল, বিল ও হাওরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল এবং বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। এই অবৈধ কার্যক্রম রুখতে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাফর উদ্দীনের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে মৎস্য অধিদপ্তর এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ বিভাগের উপপরিচালক বরুন চন্দ্রবিশ্বাসের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা (কেরানীগঞ্জ ও দোহার) এবং শরীয়তপুর (জাজিরা) সহ দেশের যেসব কারখানায় এই নিষিদ্ধ জালগুলো তৈরি করা হয়, সেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং কারখানাগুলো সিলগালা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী সারাদেশে অভিযান আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীর তথ্যানুযায়ী, চায়না দুয়ারি জাল এবং বৈদ্যুতিক শকের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে দেশের মৎস্যসম্পদ, প্রজননক্ষম মা মাছ, ছোট পোনা এবং সামগ্রিক জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার বাস্তব চিত্র এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ এবং সচেতন মহলের মতে, কেবল সাময়িক অভিযান চালানো বা জব্দ করা জালে আগুন দেওয়া যথেষ্ট সমাধান নয়। বরং এই ধরনের ক্ষতিকর জালের উৎপাদন কেন্দ্র এবং বিপণন উৎসগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে না পারলে প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছ রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায়, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং একটি বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার মাধ্যমে এসব অবৈধ তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জোরালো দাবি উঠেছে।