আফ্রিকার দেশ সুদানে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রাণঘাতী হামলায় এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে অনেকেই একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার পথে এই হামলার শিকার হন।
গত রোববার সন্ধ্যায় প্রথম বড় ধরনের হামলাটি সংঘটিত হয়। সুদানের ওয়েস্ট করদোফান রাজ্যের দুটি ভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত ১৫০ জন নিহত হন। সুদানের চলমান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সুদান ওয়ার অবজারভেটরি’কে বিভিন্ন সূত্র থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এর পরপরই গত সোমবার দ্বিতীয় আরেকটি ভয়াবহ হামলা ঘটে। সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকা আবেইতে ড্রোন হামলায় আরও ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্র অনুযায়ী, একটি জনাকীর্ণ বাজারে এই হামলা চালানো হয়।
সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, “আবেই এলাকার বাজারে হামলাটিও সুদানের সেনাবাহিনী চালিয়েছে।” তবে ওই সূত্রের দাবি, বাজারটি আরএসএফের জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তাই সেখানে হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ওই অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। বর্তমানে সুদানের ওপর আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলেও, কিছু দেশ গোপনে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ—উভয় পক্ষকেই ড্রোন সরবরাহ করে যাচ্ছে। ফলে চলমান এই গৃহযুদ্ধে ড্রোন এখন অন্যতম প্রধান ও পছন্দের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
এই ড্রোন হামলার পর সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তেলসমৃদ্ধ আবেই অঞ্চলটি যৌথভাবে পরিচালনা করলেও এর মালিকানা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভ করার পরও আবেই অঞ্চলের সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে দক্ষিণ সুদান সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংঘাত দুই দেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে বাড়িয়ে তুলবে।
আফ্রিকার অন্যতম দরিদ্র এই দেশ দুটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি তৈরি হয়েছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সোমবার এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশটিতে একের পর এক প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় আমরা উগ্বিগ্ন। এসব হামলায় শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে। জরুরি পরিষেবাগুলো ব্যাহত হচ্ছে।’