যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা বাজারে প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে মহড়া দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শরীফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা বাজারে এই ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিপুল বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু হাতে নিয়ে বাজার এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান ওই ব্যক্তি ডিহি ইউনিয়নের ফুলসর গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে শরীফ। ইউসুফ আলী বর্তমানে মেম্বার পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ করেছেন যে, শরীফ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া, শরীফকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া এবং তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ না করে অন্যদের হেফাজতে রাখার বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে।

থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে শার্শা এলাকায় বিপুল বিশ্বাসের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই অভিযোগে মো. শরিফুল ইসলাম শরীফ, মো. আমির আলী, মো. মকবুলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিপুল বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন যে, দাবিকৃত টাকা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাকেই নয়, তার পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি পুলিশের কাছে জিডি করেছেন।

প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবির এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ঘটনার তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”