গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গণমাধ্যমকে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে এবং এই ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে গণমাধ্যমের সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যম যদি গণতান্ত্রিক আদর্শে পরিচালিত হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তবে তার সর্বোচ্চ সুফল সাধারণ জনগণই লাভ করে।

আজ সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা এই সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এই বিষয়ে অবহিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংগঠনের ভূমিকা পালন করতে হবে। সব কর্মী ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে সোচ্চার হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার বিচার নিশ্চিতসহ মূল সমস্যাগুলো সমাধানে পেশাদার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।”

ডিআরইউ প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপকালে তাঁদের সংগঠনের পরিচিতি এবং সদস্যদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সংগঠনের কার্যক্রমগুলো আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে তারা রাষ্ট্রপতির আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কর্তৃক আয়োজিত ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াই ও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন। সেই সময়ে সাংবাদিকদের সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য তিনি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ডিআরইউর সার্বিক উন্নয়নে সহায়তার বিষয়ে সদস্যদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।