কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম, যিনি হিরো আলম (৪০) নামে পরিচিত, তাঁর সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন তিনি। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করার পর পুরো বিষয়টির তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাবেক স্ত্রীর নাম মোছা. সাথী খাতুন (২২)। এছাড়া মামলার অন্য দুই আসামি হলেন হিরো আলমের সহযোগী আহসান হাবিব সেলিম (৩০) এবং মো. মহিদুল ইসলাম (২৮)।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে হিরো আলমের আইনজীবী সান্তা সাকছিনা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আদালত হিরো আলমের জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।”
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাবেক স্ত্রী সাথী খাতুন হিরো আলমের কাছে এসে তাঁর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার সুযোগ চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাংসারিক ব্যয় এবং পোশাক কেনার জন্য হিরো আলম তাঁকে অর্থ প্রদান করেন। এর মধ্যে গত ১৭ আগস্ট সাথী খাতুনকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার কথা সাথী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকারও করেছিলেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর গত ২২ আগস্ট ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে হিরো আলম সৌদি আরবে গমন করেন। সেখানে অবস্থানকালে সাথী খাতুন মিউজিক ভিডিওর শুটিং ও সাজসজ্জার কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর হিরো আলম সাথী খাতুনকে তালাক প্রদান করেন। এরপর তিন আসামি একত্রিত হয়ে তাঁর কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই চাঁদা না পেয়ে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিরো আলম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাদী।
এছাড়া মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১২ অক্টোবর আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি লাইভে এসে হিরো আলমের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বিষপানের এবং বাদীকে জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি প্রদান করেন।