রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৯ম গ্রেডের সিনিয়র অফিসার পদটি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, এই পদের কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪,০০০ থেকে ১,০৫,৯০০ টাকার মধ্যে। উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ার এমসিকিউ, লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভা কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়। গত ৫ মে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সিনিয়র অফিসার পদের এমসিকিউ এবং লিখিত পরীক্ষার নম্বর বণ্টন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজের ওপর এমসিকিউ পরীক্ষায় ১০ নম্বর এবং লিখিত পরীক্ষায় ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে হলে প্রতিটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজ বিষয়ে ভালো ফলাফল করার জন্য নিম্নোক্ত কৌশলগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে—

১. ৯ম-১০ম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের অধ্যয়ন:
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অনুমোদিত ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বইগুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। এই বইয়ের মোট ১৩টি অধ্যায়ের মধ্যে শেয়ার, বন্ড, ডিবেঞ্চার, অর্থায়নের উৎস, অর্থের সময় মূল্য, ব্যাংকিং ব্যবসা ও তার ধরন, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ব্যাংক চেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

২. মৌলিক ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ:
ফিন্যান্স এবং ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিভাষা কেবল মুখস্থ না করে সেগুলোর মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, ক্যাপিটাল বাজেটিং বা মূলধন আয়–ব্যয় প্রাক্কলন এবং কস্ট অব ক্যাপিটাল বা মূলধন ব্যয় নিরূপণ সংক্রান্ত গাণিতিক বিষয়গুলো যদি কেবল মুখস্থ করা হয়, তবে ইন্টারেস্ট রেট বা কম্পাউন্ডিংয়ের ধরন পরিবর্তিত হলে সমস্যা সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও এই পরীক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা এবং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের গ্র্যাজুয়েটরা অংশগ্রহণ করেন, তবুও দুই থেকে তিন মাস নিয়মিত পড়াশোনা করলে বিজনেস গ্র্যাজুয়েট না হয়েও এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।

৩. উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবই অনুসরণ:
এনসিটিবি অনুমোদিত বিভিন্ন লেখকের উচ্চমাধ্যমিক ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা বইগুলো প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হতে পারে। এই বইগুলো পড়ার মাধ্যমে এমসিকিউ এবং লিখিত—উভয় ধরনের প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া সম্ভব।

৪. পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ:
ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় আগে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজ নামে আলাদা কোনো বিষয় না থাকলেও সাধারণ জ্ঞানের অংশ হিসেবে ব্যাংকিং নলেজ থেকে প্রশ্ন আসত। ব্যাংক হিসাব, মনিটারি পলিসি, ফিসক্যাল পলিসি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক নোট, এমআইসিআর চেক, বিইএফটিএন, আরটিজিএস, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং ডব্লিউটিও সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো নিয়মিত আসত। তাই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের এসব প্রশ্ন সংগ্রহ করে অনুশীলন করা উচিত।

৫. অর্থ ও বাণিজ্য খাতের সাম্প্রতিক তথ্যের আপডেট:
আইএমএফের সদস্য সংখ্যা, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ, দেশে তফসিলি ব্যাংকের বর্তমান সংখ্যা, সিআরআর এবং এসএলআর-এর হার কত—এই ধরনের সাম্প্রতিক তথ্যের ব্যাপারে আপ-টু-ডেট থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য নিয়মিত দৈনিক পত্রিকার অর্থ ও বাণিজ্য পাতা অনুসরণ করা যেতে পারে।

প্রবন্ধটির লেখক রাজীব খান, যিনি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সিনিয়র অফিসার এবং ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষার দুটি পর্ব (জেএআইবিবি, এআইবিবি) উত্তীর্ণ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।