ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিউলী খানম। বর্তমান সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০ জন কর্মকর্তা তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে শিউলী খানম আজ শনিবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর লেখা পদত্যাগপত্রটি ১৫ অক্টোবর তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন।”
এর আগে একই ধরনের ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বেলায়েত হোসেন। তার ঠিক আগের দিন, ২০ সেপ্টেম্বরও একই কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগ করেন আরও একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম রেজাউল ফিরোজ।
উল্লেখ্য যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৩০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১৮০ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ডিএজি ও এএজি পদে মোট ২৬৬ জন আইনজীবী নিয়োগ পান। এর আগে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ডিএজি ও এএজির নিয়োগ আদেশ বাতিল করে এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।
নতুন এই নিয়োগের পর ‘ব্যক্তিগত অসুবিধার’ কথা জানিয়ে গত ১৬ আগস্ট প্রথম পদত্যাগপত্র জমা দেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নুরুল করিম। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞাসহ পাঁচজন আইন কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করেন।
পদত্যাগকারী ওই পাঁচজনের মধ্যে মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। বাকি চার আইন কর্মকর্তা গত ৩০ জুলাই নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আকতার রুবি ও মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।
পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন। তিনিও গত ৩০ জুলাই ডিএজি পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ডিএজি ও এএজি পদে মোট ২৬৬ জনের এই নিয়োগের পর কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া এবং নিয়োগ থেকে বঞ্চিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ গত ২ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে সেদিন ওই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই তাঁরা তাদের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।