পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামের একটি খালের পাড় থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির মা রুমা বেগমের করা মামলায় আল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত শিশু রাইয়ান ঘুটাবাছা গ্রামের রাসেল খান ও রুমা বেগমের সন্তান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রুমা বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর তাঁর স্বামী রাসেল খান রাইয়ানকে নিয়ে বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন সময় ছিল আনুমানিক সকাল সাড়ে ৬টা। সেই সময় তিনি ঘরের গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে তিনি দেখেন যে রাইয়ান সেখানে নেই। এরপর তিনি দ্রুত রাসেলকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে চারদিকে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেন এবং এমনকি ঘরের পাশের পুকুরে নেমেও সন্তানকে খোঁজার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে রাইয়ানের সন্ধান পেতে এলাকাজুড়ে মাইকিং করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি।
বাবা রাসেল খান বলেন, ‘ঘটনার দিন সকাল ৬টার কিছু পরে আমার ঘুম ভাইংগ্যা যায়। এ সময় ঘরের মধ্যে আমার আপন ভায়রা আল আমিনকে দ্যাখতে পাই। হেরপর আমি আবার ঘুমাইয়া পড়ি। আমার স্ত্রী ঘরের বাইরের কাজ শেষ কইরা ঘরে আইয়া রাইয়ানরে না দেইখ্যা আমারে ঘুমে গোনে জাগায়। আমার মনে হয় আমি দ্বিতীয়বার যহন ঘুমাইয়া পড়ছি, হয়তো তহনই আমার রাইয়ান নিখোঁজ হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাসেল ও আল আমিন কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেন এবং তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল।
রাইয়ান নিখোঁজ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাতেই আল আমিনসহ ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মা রুমা বেগম। তবে মামলা করার আগেই ওই দিন দুপুরেই কলাপাড়া থানা-পুলিশ সন্দেহজনকভাবে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে ফেলে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকার লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে খালের পাশে গিয়ে একটি শিশুর মরদেহ কাপড়ের ব্যাগের মধ্যে দেখতে পায়। রাসেল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটি তাঁর সন্তান রাইয়ান বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। আমার ধারণা, হয়তো শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।