পাস্তা খেতে ভালোবাসেন? কখনো ক্রিমি সসের সঙ্গে পেন্নে, কখনো টমেটো সসে স্প্যাগেটি, আবার কখনো চিজে ভরা লাসানিয়া। ইতালীয় খাবার হিসেবে পরিচিত পাস্তা এখন বিশ্বের নানা দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয়। রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ঘরের রান্নাঘর, সব জায়গাতেই পাওয়া যায় পাস্তার নানা পদ।
পাস্তার জনপ্রিয়তা এবং এর বৈচিত্র্যকে ঘিরে ১৭ অক্টোবর পালন করা হয় জাতীয় পাস্তা দিবস (National Pasta Day)। এ বছর দিনটি পড়েছে শনিবারে। এ দিন পাস্তা খাওয়ার পাশাপাশি খাবারটি সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য জেনে নিতে পারেন আপনিও।
জাতীয় পাস্তা দিবস মূলত পাস্তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা উদ্যাপনের একটি উপলক্ষ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে দিনটি নানা ধরনের পাস্তা খাওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করা হয়। কেউ বাড়িতে পছন্দের পাস্তা রান্না করেন, কেউ আবার নতুন কোনো রেসিপি চেষ্টা করে দেখেন।
তবে জাতীয় পাস্তা দিবসের সূচনা ঠিক কবে হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত। তাই দিনটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা শুরুর বছর নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন।
চলুন জেনে নিই পাস্তা নিয়ে ৭টি মজার তথ্য
পাস্তার ধরন শতাধিক
পাস্তা বলতেই অনেকে স্প্যাগেটি বা ম্যাকারনির কথা ভাবেন। কিন্তু পাস্তার ধরন এর চেয়ে অনেক বেশি। লম্বা, ছোট, গোল, চ্যাপ্টা, ফাঁপা কিংবা নকশা করা, নানা আকারে পাস্তা তৈরি হয়। স্প্যাগেটি, পেন্নে, ফুসিলি, ফারফালে, রিগাতোনি ও লাসানিয়া এর পরিচিত কয়েকটি ধরন।
পাস্তার প্রতিটি আকৃতির রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। যেমন, ফাঁপা পেন্নের ভেতরে সস ঢুকতে পারে, আবার সর্পিল ফুসিলির খাঁজে সস ভালোভাবে লেগে থাকে।
পাস্তার সঙ্গে ইতালির গভীর সম্পর্ক
পাস্তা ও ইতালির সম্পর্ক বহুদিনের। ইতালিতে পাস্তা শুধু একটি খাবার নয়, বরং দেশটির খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন অঞ্চলে পাস্তা তৈরির উপকরণ, আকার এবং পরিবেশনের পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা যায়।
তবে পাস্তার ইতিহাস একক কোনো দেশ বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন ধরনের নুডলস ও ময়দার খাবারের ইতিহাসও দীর্ঘ। তাই পাস্তা কে প্রথম তৈরি করেছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
সব পাস্তা একই উপকরণে তৈরি হয় না
অনেক পাস্তা তৈরি হয় ডুরাম গমের সুজি ও পানি দিয়ে। আবার কিছু পাস্তায় ডিম ব্যবহার করা হয়। অঞ্চল, রেসিপি এবং প্রস্তুতকারকভেদে উপকরণে পরিবর্তন দেখা যায়।
এ ছাড়া এখন বাজারে গমের পাশাপাশি চাল, ডাল, ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য দিয়ে তৈরি পাস্তাও পাওয়া যায়। ফলে খাদ্যাভ্যাস ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পাস্তা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পাস্তার আকারের সঙ্গে রান্নার সম্পর্ক রয়েছে
পাস্তার আকার শুধু দেখতে সুন্দর করার জন্য নয়। কোন পাস্তার সঙ্গে কেমন সস মানাবে, সেটিও অনেকটা এর আকৃতির ওপর নির্ভর করে।
লম্বা স্প্যাগেটির সঙ্গে হালকা তেলভিত্তিক বা টমেটো সস ভালো মানায়। অন্যদিকে পেন্নে বা রিগাতোনির মতো ফাঁপা পাস্তার সঙ্গে ঘন সস পরিবেশন করা যায়। লাসানিয়া আবার স্তরে স্তরে সাজিয়ে চিজ, সস ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে রান্না করা হয়।
পাস্তা কার্বোহাইড্রেটের উৎস
পাস্তার প্রধান উপাদান সাধারণত গম বা অন্য কোনো শস্য। তাই এতে কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরের শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে পাস্তার পুষ্টিগুণ নির্ভর করে এর উপকরণ, পরিবেশনের পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর।
পূর্ণশস্য দিয়ে তৈরি পাস্তায় সাধারণত পরিশোধিত গমের পাস্তার তুলনায় বেশি আঁশ থাকে। সবজি, ডাল, মাছ বা মুরগির মাংসের সঙ্গে পাস্তা খেলে খাবারে পুষ্টির বৈচিত্র্যও বাড়ে। তবে অতিরিক্ত চিজ, ক্রিম ও লবণযুক্ত সস ব্যবহার করলে খাবারে ক্যালরি, চর্বি ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
পাস্তা রান্নারও রয়েছে কিছু কৌশল
পাস্তা রান্নার সময় পানিতে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা এবং প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সেদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ। ইতালীয় রান্নায় আল দন্তে (al dente) পাস্তা বেশ পরিচিত। এভাবে রান্না করলে পাস্তা পুরোপুরি নরম না হয়ে সামান্য দৃঢ় থাকে।
পাস্তা সেদ্ধ করার পর কীভাবে সসের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে, সেটিও স্বাদে প্রভাব ফেলে। অনেক রেসিপিতে পাস্তা সেদ্ধ করার সামান্য পানি সসে মেশানো হয়। এতে সসের ঘনত্ব ও পাস্তার সঙ্গে এর মিশ্রণ ভালো হতে পারে।
জাতীয় পাস্তা দিবস আর বিশ্ব পাস্তা দিবস এক নয়
অনেকে জাতীয় পাস্তা দিবস ও বিশ্ব পাস্তা দিবসকে একই দিন মনে করেন। কিন্তু দুটি আলাদা উপলক্ষ। জাতীয় পাস্তা দিবস ১৭ অক্টোবর পালন করা হয় বলে পরিচিত। অন্যদিকে বিশ্ব পাস্তা দিবস (World Pasta Day) পালিত হয় ২৫ অক্টোবর।
বিশ্ব পাস্তা দিবসের লক্ষ্য হলো পাস্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে এর ভূমিকা তুলে ধরা।
পাস্তা খাওয়ার সময় কী কিছু মনে রাখা দরকার?
পাস্তা সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে পরিমাণ ও রান্নার ধরন গুরুত্বপূর্ণ। পাস্তার সঙ্গে সবজি, প্রোটিনের উৎস এবং পরিমিত সস রাখলে খাবারটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
যাদের গ্লুটেন অসহিষ্ণুতা বা সিলিয়াক রোগ রয়েছে, তাদের সাধারণ গমের পাস্তা এড়িয়ে চলতে হয়। সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত গ্লুটেনমুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি। ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে নিজের খাদ্যপরিকল্পনা অনুযায়ী পাস্তার পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো।
জাতীয় পাস্তা দিবস পছন্দের খাবার উপভোগ করার পাশাপাশি নতুন রেসিপি চেষ্টা করারও একটি উপলক্ষ। স্প্যাগেটি, পেন্নে কিংবা লাসানিয়া, পাস্তার ধরন যেমন অনেক, তেমনি এর রান্নার পদ্ধতিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। তবে স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টির দিকেও নজর রাখা জরুরি। পরিমিত পরিমাণে এবং সবজি ও প্রোটিনের সঙ্গে পাস্তা খেলে খাবারের স্বাদ ও পুষ্টি, দুটোই উপভোগ করা সম্ভব।