রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর চালানো প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মো. শাহজাহান (৫০) নামের এক রিকশাচালক প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও দুই পথচারী—এক নারী ও তাঁর ১০ বছর বয়সী কন্যা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ শুক্রবার দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে রাজশাহী শহরের তালাইমারী মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, এস এম রিজন নামের ওই শিক্ষার্থী অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন। এসময় তিনি এক নারী পথচারীকে ধাক্কা দিলে ওই নারী সড়কের পাশে ছিটকে পড়েন। এরপর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও দুজন রিকশাচালককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মো. শাহজাহান নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে গাড়িসহ ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গাড়িসহ বোয়ালিয়া থানায় নিয়ে যায়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান জানান, “ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গাড়িসহ বোয়ালিয়া থানায় নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিহত শাহজাহান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চব্বিশনগর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। অন্যদিকে, আহত মিতা বেগম (৪০) এবং তাঁর মেয়ে সুবাইদা জান্নাত নগরের বোয়ালিয়া থানার রানীনগর পানির ট্যাংকি এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে শাহজাহান নামের একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্য দুজনের চিকিৎসা চলছে।”
অভিযুক্ত এস এম রিজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং তিনি ‘বেঙ্গল সিগনেচার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারি জানান, “এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার বাদী হয়ে মামলাটি করবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য যে, এস এম রিজনের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। সে সময় ক্যাম্পাসে আর বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাবেন না—এমন মুচলেকা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।