দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন জাহানারা আলম। এই দীর্ঘ বিরতির সময়ে নানা বিতর্ক এবং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। তবে এবার আবারও দেশের জার্সি গায়ে মাঠে ফেরার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। শুধু জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে খেলতে বিদায় জানানোর আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তাঁর। ৩৩ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পেসার ইতিমধ্যেই তাঁর এই ইচ্ছার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) অবহিত করেছেন।

জাহানারার ফেরার আগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। তিনি জানান, জাতীয় দলের পাশাপাশি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও অংশ নিতে আগ্রহী জাহানারা। তবে তাঁকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বিসিবি।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘হ্যাঁ, জাহানারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সে জানিয়েছে, আবার ফিরতে চায় এবং খেলতে চায়।’

জাহানারার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে বিসিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘সে বলেছে, “আমি জাতীয় দলে খেলে অবসর নিতে চাই। সে কারণেই নিজেকে এতটা ফিট রেখেছি।”’

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবারের মতো বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন জাহানারা। তবে তার পরের মাসেই মানসিক ক্লান্তির কথা উল্লেখ করে জাতীয় দল থেকে সাময়িক বিরতি নেন তিনি। ক্রিকেট পুরোপুরি ছেড়ে না দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি। যদিও এরপর থেকে বাংলাদেশের জাতীয় দল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো প্রতিযোগিতায় তাঁর অংশগ্রহণ ছিল না।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে বিসিবির নারী বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তোলেন জাহানারা। পাশাপাশি জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও আনেন তিনি। যদিও জ্যোতি তাঁর বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। এই সব ঘটনা দেশের নারী ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলো-আঁধারি ও আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে জাহানারার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। গত ফেব্রুয়ারিতে ওই কমিটি জানায়, চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে বাকি দুটির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাবেক নির্বাচক ও নারী দলের ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির আওতাধীন সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

অতীতের এসব বিতর্কের আবহে জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জাহানারা। তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের গ্রুপিংয়ে বিশ্বাস করি না। অনেকের সঙ্গে অনেকের ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে এসব একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তবে কেবল ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেই সরাসরি জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছেন না জাহানারা। রফিকুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, তাঁকে অবশ্যই ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে। এরপর নির্বাচক প্যানেলই সিদ্ধান্ত নেবেন জাতীয় দলে তাঁর জায়গা হবে কি না।

বিসিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, সামনে মেয়েদের বেশ কিছু ঘরোয়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য সামনে রেখে কোন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, তা জাহানারাকেই নির্ধারণ করতে হবে। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরতে হলে তাঁকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া জাহানারা বাংলাদেশের হয়ে ৫২টি ওয়ানডে ও ৮৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ওয়ানডেতে ৪৮টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৬০টি মিলিয়ে তাঁর মোট উইকেটের সংখ্যা ১০৮টি। এক সময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সেই পুরনো জায়গায় ফিরতে পারবেন কি না, তা এখন সম্পূর্ণভাবে তাঁর ফিটনেস এবং মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে।