দেশের বিমানবন্দরগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই বিশেষ কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিমানবাহিনীপ্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি)।
কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মানোন্নয়নে আগামী দুই মাসের মধ্যে কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজন মনে করলে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখবে। প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে যে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। সরকারের এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশের বিমানবন্দরগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি যাত্রী এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। সম্প্রতি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত এক বছরের ব্যবধানে দুবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাধারণত একটি দেশের বিমানবন্দরের যেকোনো ছোট-বড় ঘটনা দ্রুত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার পায়। ফলে এই ধরনের স্পর্শকাতর স্থানে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা সেখানকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বিশ্বজুড়ে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৮ অক্টোবর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে (পণ্য রাখার স্থান) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, “হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে (পণ্য রাখার স্থান) অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে।” এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ এবং দেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েই কাজ করবে নবগঠিত এই কমিটি।