তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, ফোর্ট হুডে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না। তবে নিহতদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর সেখানে উপস্থিত থেকে ঘটনাটি দেখতে পারবেন।

স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত জানান। উল্লেখ্য, এর আগে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক মত দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প তাঁর বার্তায় লিখেছেন, ‘আমার মনে হয়, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা অন্যদের এ ধরনের অপরাধ করা থেকে বিরত রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারত। বিশ্ব দেখতে পেত, সন্ত্রাসী ও নিদাল হাসানের মতো অপরাধীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আচরণ করে।’

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক বিবেকবান ও ভালো মানুষ এই মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার বা অন্য কোনো মাধ্যমে দেখতে আগ্রহী নন। জনমানুষের এই sentiment বিবেচনা করেই সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আরও জানান, নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়দের সশরীর উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ট্রাম্পের ভাষায়, তাঁরা ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করার অধিকার রাখেন।

পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩ ডিসেম্বর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে এই মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন নেতার মনেও সংশয় ছিল। তাঁদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অন্যতম। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারাও এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলছি, সাধারণ মানুষ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা সরাসরি দেখতে পারবেন। মানুষের বোঝা উচিত, এমন কর্মকাণ্ডের (তাঁর হত্যাকাণ্ড) পরিণাম কত ভয়ানক।’ মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ‘রিয়াল আমেরিকাস ভয়েস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, একদল সেনা গুলি করে (ফায়ারিং স্কোয়াডে) নিদালের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন।

সাম্প্রতিক কিছু জনমত জরিপেও দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিপক্ষে মত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক একজন মনোরোগ-বিশেষজ্ঞ। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে সামরিক আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন।