ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে এক যাত্রীকে ট্রেনের টিকিট দেখাতে বলায় দলবল নিয়ে এসে ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার ও টিকিট কালেক্টরকে (টিসি) নির্মমভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অবস্থিত স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
এই অতর্কিত হামলায় ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান এবং টিকিট কালেক্টর (টিসি) সঞ্জিত মণ্ডল গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন ও রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তনগর মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌঁছায়, তখন ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছিলেন টিসি সঞ্জিত মণ্ডল।
১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের প্রধান ফটকের কাছে এক যাত্রীর কাছে টিকিট দেখতে চান টিসি। ওই যাত্রীর কাছে টিকিট না থাকায় তাঁকে স্টেশন থেকে বের হওয়ার ফটকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে ওই যাত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে টিসির সঙ্গে উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং উভয়ের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সঞ্জিত মণ্ডল ওই যাত্রীকে স্টেশনের রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান।
পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থানকালে ওই যাত্রী তাঁর সহযোগীদের ফোন করে ডেকে আনেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ১০-১২ জন যুবক পুলিশ ফাঁড়িতে এসে জড়ো হন। আটক থাকা ওই যুবক নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম মিয়া বিষয়টি মিটমাট করে ওই যাত্রীকে ছেড়ে দেন।
স্টেশন কর্মকর্তা ও পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই যাত্রী আরও ৮-১০ জন বহিরাগত যুবককে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে পুনরায় স্টেশনে প্রবেশ করেন। সেখানে একা পেয়ে স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনেই টিসি সঞ্জিত মণ্ডলকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করেন তাঁরা। সঞ্জিতের চিৎকার শুনে কক্ষ থেকে দ্রুত ছুটে আসেন ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকিল জাহান। হামলাকারীরা তাঁর ওপরও চড়াও হয় এবং তাঁকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরবর্তীতে স্টেশনের অন্যান্য কর্মচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারী দলটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান বলেন, ‘ট্রেনে বিনা টিকিটে আসা এক যাত্রীকে আইন অনুযায়ী ধরায় টিকিট কালেক্টরের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমিও হামলার শিকার হয়েছি। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শাহ আলম মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। হামলাকারীরা শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির বলে নিশ্চিত হতে পেরেছি। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।