মাগুরা ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সীমানার সংযোগস্থলে অবস্থিত মাত্র ৫০০ মিটারের একটি কাঁচা সড়কের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। কোদালিয়া-শ্রীরামপুর নামে পরিচিত এই কাঁচা সড়কটি দুটি উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে। বর্তমানে সড়কটি অত্যন্ত বেহাল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা এবং কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সড়কটির পূর্ব পাশে মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীরামপুর, হাজীপুর ও রামচন্দ্রপুর গ্রাম অবস্থিত। অন্যদিকে পশ্চিম পাশে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কোদালিয়া, যুগনী, বাগনী, আবাইপুর, হরিশংকরপুর, চন্দ্রজানী ও শিতারামপুর গ্রাম। সাধারণত এই পথ দিয়ে রিকশা, ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান চলাচল করে। তবে বর্ষা মৌসুমে কিংবা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রাস্তাটি পানি ও কাদায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাগুরা শহরে যেতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এবং ঝিনাইদহ শহরে যেতে ছয় কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই কাঁচা সড়কটি পাকায় করার জন্য তারা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। এমনকি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সামনে ধরনায় বসলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে, কিন্তু দুর্ভোগ লাঘবে কোনো সরকারেরই উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তাদের দাবি।
কোদালিয়া-শ্রীরামপুর সড়কটির অধিকাংশ অংশ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। তবে হরিশংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ মাসুম গতকাল মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, “সরকারের উচিত সড়কটি পাকা করে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা।”
স্থানীয় কৃষক আমজাদ হোসেন তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, “তাঁর জমিতে ধান-পাট থেকে শুরু করে সব ধরনের চাষাবাদ হয়। উৎপাদিত ফসল সড়কটি দিয়েই ঘরে তুলতে হয়। বর্ষা মৌসুমে কাদার কারণে সড়কে চলাচল করা যায় না। যে কারণে কখনো কখনো জমিতে ফসলে রেখে দিতে হয়। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি বর্তমানে এলজিইডির আইডিভুক্ত বা তালিকাভুক্ত নয়। তবে নতুন করে বেশ কিছু সড়ক আইডিভুক্ত করার জন্য ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যার তালিকায় এই সড়কটিও রয়েছে। আইডিভুক্ত হলে সড়কটি পাকায় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
গত ৩ অক্টোবর কোদালিয়া-শ্রীরামপুর সড়কে পরিদর্শনে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে বসতি ও চাষযোগ্য জমি রয়েছে। পুরো কাঁচা সড়কটি খানাখন্দে ভরা এবং ভাঙাচোরা হয়ে আছে। অনেক জায়গায় জমে থাকা কাদা শুকিয়ে শক্ত হয়ে আছে। সেখানে কথা হয় কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সবুজ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সড়কটি দিয়ে মোটেও চলাচল করা যায় না। তাঁদের দুর্ভোগ লাঘবে কোনো সরকারই উদ্যোগ নিচ্ছে না।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এই সড়কের প্রভাব পড়ছে। কোদালিয়া গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শ্রীরামপুর গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক ও একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে, যাদের প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া গ্রামের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ বিষয়ে এলজিইডির ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সড়কটি এলজিইডির আইডিভুক্ত (তালিকাভুক্ত) নয়। তবে তাঁরা নতুন করে বেশ কিছু সড়ক আইডিভুক্তির জন্য ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। যার মধ্যে ওই সড়ক রয়েছে। আইডিভুক্ত হলে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”