‘মা, বিপদে পড়েছি, এখনই কিছু টাকা পাঠাও।’ সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহানার ফোনে একটি কল আসে। ফোনের ওপাশের কণ্ঠটি ছিল তাঁরই ছেলের। গলার স্বর এবং কথা বলার ধরন—সবকিছুই ছিল একদম নিখুঁত এবং চেনা। পেশায় চিকিৎসক তাঁর ছেলেটি ঢাকাতেই থাকেন। তবে ঘটনার পর মুহূর্তেই এক প্রতিবেশী এসে জানান যে, এই সময়ে তাঁর ছেলের তো অফিসে থাকার কথা। তখনই শাহানা বুঝতে পারেন তিনি এক বড় ধরনের প্রতারণার সম্মুখীন হয়েছেন।

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বর্তমানে এই ধরনের ‘এআই ক্লোনিং’ বা ভয়েস নকল (ভয়েস ক্লোন) প্রতারণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। জালিয়াতেরা খুব সহজেই কোনো ব্যক্তির মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও রেকর্ড ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে হুবহু সেই কণ্ঠ তৈরি করে ফেলছে এবং তা দিয়ে প্রতারণার জাল পাতছে।

প্রতারকদের এই কৌশলের মূল উৎস হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সেখানে আপলোড করা কোনো ভিডিও থেকে কণ্ঠ সংগ্রহ করে তারা পরিবারের সদস্য সেজে জরুরি প্রয়োজনে টাকার দাবি জানায়। কণ্ঠস্বর একদম আসল মনে হওয়ায় অনেকেই বিশ্বাস করে ফেলেন এবং প্রতারিত হন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে এই ধরনের এআই প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-ও এই বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিটিআরসি এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের সমন্বয়ে তৈরি এক প্রতিবেদনে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার জন্য জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এই ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা থেকে বাঁচতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। অডিওর কণ্ঠ হুবহু মিলে গেলেও অন্ধ বিশ্বাস না করে সব সময় বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সন্দেহ হলে কলটি কেটে দিয়ে নিজে থেকে ওই ব্যক্তির নম্বরে ফোন করে সত্যতা যাচাই করে নিন। এছাড়া প্রেস অ্যান্ড হোল্ড বা বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে আসল কণ্ঠ চেনার চেষ্টা করুন। ভুয়া অডিওর বিভ্রান্তিতে পা দেবেন না। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি বিশেষ ‘গোপন কোড’ ঠিক করে রাখা যেতে পারে, যা কেবল পরিবারের সদস্যরা জানবেন। বিপদের সময় এই কোডটি ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে কথা বলা ব্যক্তিটি প্রকৃত সদস্য কি না।