চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, গ্যালারিতে দুয়ো, নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা—সব মিলিয়ে সময়টা ভালো যাচ্ছে না  ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। এ সময়ে তিনি অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিওকে পাশে পাচ্ছেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল রাতে রোমার বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে নিষেধাজ্ঞার খবর জানানোয় স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছেন মরিনিও। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভিনিসিয়ুস নিজেও।

গত শনিবার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষের চুল টেনে লাল কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস। কাল রাতে তাঁকে চার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দেয় প্রতিযোগিতা কমিটি। ফলে লিগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা। সে তালিকায় রয়েছে বার্সেলোনার বিপক্ষে ‘এল ক্লাসিকো’ও। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা রিয়ালের চেয়ে ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে।

তবে নিষেধাজ্ঞার চেয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়েই বেশি ক্ষুব্ধ মরিনিও। রোমার মাঠে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪–৩ গোলে জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেন, ‘আপনার কি মনে হয়, স্প্যানিশ একটি দলের একজন খেলোয়াড়কে ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবর জানানো স্বাভাবিক? ম্যাচটি স্প্যানিশ ফুটবলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ কি এখন সিদ্ধান্তটি জানাতে পারত না? আগামীকাল সকালে জানাতে পারত না? আমাদের কি বাসে করে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর সময়ে জানতে হবে যে ভিনিসিয়ুস চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে?’

ক্ষোভ উগরে দিয়ে মরিনিও আরও বলেন, ‘এখন তারা নির্লজ্জভাবে এসব কাজ করে। আসল বিষয়টি এখন আর গোপন নেই। ম্যাচের দুই ঘণ্টা আগে একজন খেলোয়াড়কে জানতে হবে যে সে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে!’

স্প্যানিশ ফুটবলের স্বার্থের প্রসঙ্গও টেনে আনেন পর্তুগিজ কোচ। তাঁর ভাষায়, ‘একটি স্প্যানিশ দল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছে। স্প্যানিশ ফুটবলের র‍্যাঙ্কিং ও মর্যাদা বাড়িয়েছে। আর আপনারা ম্যাচের দুই ঘণ্টা আগে একজন খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে চান? আমার কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয় না।’

মরিনিওর মতে, এমন সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়ের প্রতি অসম্মান। তিনি বলেন, ‘অন্তত এটুকু বলতে পারি, এটি সম্মানের অভাব।’

ভিনিসিয়ুস নিজেও প্রশ্ন তুলেছেন সিদ্ধান্তের সময় নিয়ে, ‘আমার মনে হয়, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময়টা ঠিক ছিল না। সারা দিন সময় ছিল তাদের। অথচ আমি স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পরই খবরটি জানতে পারলাম। আর আমি কখনো অন্য কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করিনি। আমাকে মাঠে অনেক ফাউল করা হয়। অথচ আমার ক্ষেত্রে (প্রতিপক্ষের জন্য) একটি হলুদ কার্ডই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।’

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও নিজের পারফরম্যান্সের সমালোচনা করতে পিছপা হননি ভিনিসিয়ুস। রোমার বিপক্ষে বদলি হয়ে উঠে যাওয়ার সময় রাগের কারণ ব্যাখ্যা করে ভিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক। আমাকে বদলি করার পর রেগে গিয়েছিলাম। কারণ, আমি সব সময় নিজের সেরাটা দিতে চাই এবং দলকে সাহায্য করতে চাই। তবে বদলি খেলোয়াড়েরাই কাল দলকে বদলে দিয়েছে। এনদ্রিক মাঠে নেমে খেলার চেহারা পাল্টে দিয়েছে। আমার মতে, সে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিল। কার্লোসও অল্প সময়ের জন্য নেমে গোল করেছে।’

ম্যাচে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি নিজের ওপরই রাগান্বিত, কারণ আমি আমার সেরাটা দিতে পারিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ভিনি আবার ফিরে আসে। আমি নিশ্চিত, এবারও ফিরব।’

রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের দুয়ো নিয়েও মুখ খুলেছেন ভিনিসিয়ুস। তবে সমর্থকদের প্রতি অসম্মান দেখাননি। ব্রাজিলিয়ান তারকা বলেন, ‘সমর্থকদের দুয়ো অবশ্যই আমাকে সাহায্য করে না। তবে মানুষ টিকিট কিনে মাঠে আসে। তাদের নিজস্ব মতামত আছে, আর আমি সেটাকে সম্মান করি।’