পুলিশের যাত্রা ঠিক কখন, কোন পরিস্থিতিতে এবং কোথায় শুরু হয়েছিল তা বলা সম্ভব না হলেও এটা বলা যায় যে পুলিশের শুরু হয়েছিল মানবসভ্যতার উষালগ্নে অন্যায় থেকে সমাজকে সুরক্ষার জন্য। প্রকৃতির রাজ্যে সম–অধিকার ব্যবস্থাকে ভেঙে প্রকৃতির সম্পদের ওপর অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে শক্তিশালীরা প্রকৃতির সম্পদের ওপর মালিকানার জন্ম দেয়।
তখন মালিকানাকে সুদৃঢ় ও সুরক্ষার জন্য শক্তিশালীরাই সমাজের ভারসাম্যকে নিজ পক্ষে রাখার জন্য পুলিশের জন্ম দেয় বলেই সমাজবিজ্ঞানীদের ধারণা। অপেক্ষাকৃত নিরীহ ব্যক্তিকে প্রকৃতির সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে তার বিচার না করে সম্পদ কুক্ষিগত করার পর যে শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়, সে পরিস্থিতির স্থিতিশীলতাকে সুরক্ষার ব্যবস্থা শক্তিশালী পক্ষ থেকেই গ্রহণ করা হয়। এই অবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই শুরু হয় পুলিশের যাত্রা।
শুনতে আশ্চর্য মনে হলেও এটা অনস্বীকার্য যে পুলিশের যাত্রা শুরু হয়েছিল কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে। এই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্দেশ্য ছিল দ্বিবিধ। প্রথম উদ্দেশ্যটি আমি প্রথমেই বলেছি, শক্তিশালীদের সম্পদের সুরক্ষা দেওয়া; দ্বিতীয়টি হলো, দুর্বৃত্ত শক্তিশালীদের হাত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বলদের সুরক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করা।
তত্ত্বগতভাবে অন্যায় প্রতিহত ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় পুলিশের যাত্রা শুরু হওয়ার ধারণা প্রচলিত থাকলেও বিষয়টি আদৌ সঠিক নয়। সবলদের নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র ও সমাজের শক্তিশালী কাঠামোর স্থায়িত্ব এবং সেই স্থায়িত্বকে স্বপক্ষে রাখার জন্যই সুচতুর সবলরা পুলিশ সৃষ্টি করেছে। পুলিশিংয়ের অন্যতম কাজ হলো শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এই ‘শৃঙ্খলা’র অর্থই হলো বিরাজমান অবস্থা অটুট রাখা। এই বিরাজমান অবস্থা সব সময় সমাজের সবলদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় সবলরা যখন দুর্বল হয়, তখন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে, অরাজকতার সৃষ্টি হয়, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে থাকে, সমাজে অনাচার-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রয়োজনেই তখন আবার শক্তিশালী বা সবল কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন এবং পাল সাম্রাজ্যের পত্তনের আগপর্যন্ত উপমহাদেশের ইতিহাসে ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, তা শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতির কারণেই সংগঠিত হয়েছিল। বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও, পাল সাম্রাজ্যের সম্রাট গোপাল পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগপর্যন্ত অরাজকতা দূর করা সম্ভব হয়নি। এ রকম অরাজকতার উদাহরণ পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে ভূরি ভূরি।
রাষ্ট্র তার স্বকীয়তাকে শান্তিপূর্ণ সময়ে পুলিশের মাধ্যমে দৃশ্যত কার্যকর রাখে। পুলিশিং হলো সমাজ নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যবস্থা। সমাজ বিকাশের ধারায় একপর্যায়ে পুলিশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পৃষ্ঠপোষকতা করার যখন প্রসঙ্গ আসে, তখন ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই বিতর্ক উঠেছিল যে পুলিশ দ্বারা যদি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে পুলিশি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক স্বৈরশাসকের জন্ম দেবে এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিতে হবে।
শক্তিশালী অথবা সবল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা অনিবার্য। ভালো হোক, মন্দ হোক—একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষই রাষ্ট্র ও সমাজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এখন পর্যন্ত সমাজ বিকাশের ধারাবাহিকতায় এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প সামাজিক মতবাদ সৃষ্টি হয়নি।
এই শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের একটি নিয়ামক হলো পুলিশিং ব্যবস্থা; সেটা যে পদ্ধতিতেই হোক। পুলিশিং ব্যবস্থাপনা সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলার জন্য অপরিহার্য প্রশাসনিক অঙ্গ। পুলিশিং ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা অসম্ভব। এই শৃঙ্খলা স্থাপনে পুলিশের ভূমিকা অনিবার্য; পুলিশ ব্যতীত সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা দূরাশামাত্র।
পুলিশ সৃষ্টির প্রাথমিক প্রেক্ষাপট সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এটাই ছিল বাস্তবতা। তাত্ত্বিকভাবে বলা যায়, পুলিশের শুরু হওয়া উচিত ছিল বৈষম্য, অসাম্য রুখে দেওয়ার ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশ সেই সাম্যপূর্ণ অবস্থার প্রবর্তন বা সাম্যপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টিতে সুরক্ষা প্রদানে ভূমিকা পালনে অধিকাংশ সময়ই সফল হয়নি। এর কারণ সমাজে অন্য নিয়ামক ক্রিয়াশীল থাকে।
সমাজ বিকাশের ধারায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নিয়ামক সমাজের সেই প্রত্যাশিত অবস্থাকে ব্যাহত করেছে। এই দায়দায়িত্ব এককভাবে কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিরাজমান ও ক্রিয়াশীল অনুঘটকগুলোই এর জন্য দায়ী।
স্থিতাবস্থা বা শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিভিন্ন কারণে অধিকাংশ সময়ই পুলিশ হয় রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন নয়তো শক্তিশালী বিত্তবানদের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা প্রচলিত আছে। রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে পুলিশের এই ভূমিকা আবশ্যক বলেও অনেকে যুক্তি দেখান।
তাঁদের যুক্তি হলো, প্রকৃতির রাজ্যের সম–অধিকারের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতাধরেরা যখন সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তখন এই নিয়ন্ত্রণকে গ্রহণযোগ্য ও বৈধতা দানের জন্য কর্তৃপক্ষের ধারণার সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষের কর্তৃত্বকে কার্যকর করতে যে শক্তির সমাজসম্মত ও স্বীকৃত কার্যকর শক্তির সৃষ্টি হয়, সেই ব্যবস্থাই হলো পুলিশিং।
রাষ্ট্র তার স্বকীয়তাকে শান্তিপূর্ণ সময়ে পুলিশের মাধ্যমে দৃশ্যত কার্যকর রাখে। পুলিশিং হলো সমাজ নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যবস্থা। সমাজ বিকাশের ধারায় একপর্যায়ে পুলিশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পৃষ্ঠপোষকতা করার যখন প্রসঙ্গ আসে, তখন ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই বিতর্ক উঠেছিল যে পুলিশ দ্বারা যদি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে পুলিশি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক স্বৈরশাসকের জন্ম দেবে এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিতে হবে।
এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়, রাষ্ট্র হলো সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে আইন প্রয়োগ, অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৈষম্য দূর করা এবং সব নাগরিকের মঙ্গল সাধনই হলো এর উদ্দেশ্য। বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নির্দেশনায় পরিচালিত পুলিশকে আধুনিক রাষ্ট্রের সার্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে নিরঙ্কুশ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তিনটি ফ্যাক্টর নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
ক্ষমতাসীন দল ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অনিয়ন্ত্রিত কর্মসূচি, জনতার বিশৃঙ্খল আচরণ, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোয় ভূমিকা পালনকারী অদৃশ্য শক্তি, যা রাষ্ট্রের নীতিমালাকে প্রভাবিত করে। পুলিশকে রাষ্ট্রের পক্ষে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এই তিন শক্তির চাওয়া-পাওয়ার কর্মসূচি পালনে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে হয়।
এই তিন শ্রেণির যে জনবল, তারা এ দেশেরই নাগরিক, তাদের রাজনৈতিক অধিকার আছে, এই জনগণ পুলিশেরই আপনজন; জনগণ কোনোভাবেই পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়, পুলিশও কোনোভাবেই জনগণের প্রতিপক্ষ নয়, এই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানই পুলিশের ম্যান্ডেট। পক্ষান্তরে আইন পালন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে নিরঙ্কুশ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা এবং কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণ জনগণের চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধেই করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশকে সরকারের নির্দেশনা মানার বাধ্যবাধকতা এবং কর্মসূচি পালনকারী রাজনৈতিক দল ও জনগণের চাওয়া-পাওয়ার প্রতি ভারসাম্য রক্ষা করেই দায়িত্ব পালন করতে হয়।
এই দ্বিমুখী সংকটে দায়িত্ব পালনে প্রফেসর এলমার পুলিশকে কৌশলী, ধৈর্যশীল, সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার পরামর্শ দেন। পুলিশকে এ দায়িত্ব পালনে থাকতে হয় নিষ্কণ্টক ও বাধা-বন্ধনহীন। পুলিশকে তিনটি বিষয় মাথায় রেখে পুলিশিং করতে হয়—
(১) সমাজের অসহায় মানুষদের অভিভাবক: সমাজকে বিপদের হাত হতে রক্ষায় পুলিশ পাহারাদার হিসেবে কাজ করে।
(২) আইন প্রয়োগকারী সংস্থা: পুলিশ দেশের প্রচলিত আইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর করে থাকে।
(৩) সরকারি কর্মচারী: সমাজজীবন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে যেসব সেবা প্রদান আবশ্যক, পুলিশ সরকারি কর্মচারী ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেই দায়িত্ব পালন করে থাকে।
পুলিশের এই দায়িত্বপালন ব্যতিরেকে রাষ্ট্রকে কার্যকর রাখা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র কার্যকর; তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পুলিশ কার্যকর। রাষ্ট্র কার্যকর—তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে। পুলিশের এই ভূমিকা পালনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের সব উপাদান ও অঙ্গের দায়িত্ব। পাশাপাশি ম্যান্ডেটের বাইরে অধস্তন পুলিশ খেয়ালখুশিমতো অন্যায় লাভের জন্য যেন কিছু না করে, তা তদারকির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে এই ত্রিমুখী দায়িত্ব পালন খুবই সংবেদনশীল, কষ্টসাধ্য ও শ্রমসাধ্য। পুলিশের সেবায় তুষ্টি অর্জন প্রায়ই অসম্ভব। এসব দায়িত্ব পালনে সমাজবিজ্ঞানীরা পুলিশকে কৌশলী, ধৈর্যশীল এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী গণমানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে নানা নামে পুলিশ আজ এই অবস্থায় উপনীত হয়েছে। পুলিশের বিষয়ে অধ্যয়ন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশ এখন আধুনিক রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পুলিশ সম্পর্কে মানুষের প্রত্যাশা থাকে সর্বাধিক। পুলিশের কাছে মানুষের প্রত্যাশার বিষয়ে আমেরিকার একসময়ের পুলিশ প্রধান অগাস্ট ভলমার বলেন, ‘একজন নাগরিক আশা করেন যে একজন পুলিশ কর্মকর্তার থাকবে সলোমনের মতো প্রজ্ঞা, ডেভিডের মতো সাহস, স্যামসনের মতো শক্তি, ইয়াকুবের মতো ধৈর্য, মুসার মতো নেতৃত্ব, দয়ালু সামারিটানের মতো মহানুভবতা, আলেকজান্ডারের মতো কৌশলগত প্রশিক্ষণ, ড্যানিয়েলের মতো বিশ্বাস, লিংকনের মতো কূটনীতি, নাজারেথের কাঠুরের (যিশুখ্রিষ্ট) মতো সহনশীলতা এবং সবশেষে প্রাকৃতিক, জৈবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার গভীর জ্ঞান—এই সব গুণাবলি যদি তাঁর মধ্যে থাকে, তবেই হয়তো তিনি একজন ভালো পুলিশ হতে পারবেন।’
পুলিশের রোমাঞ্চকর বিকাশধারা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করলে যে বিষয়গুলো উঠে আসে তা হলো: পুলিশকে আইন প্রয়োগ করতে হয়, জনগণ বা নাগরিকদের আইন মানাতে হয়, ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত কর্তৃত্বপূর্ণ সক্ষমতা দ্বারা আইন মানতে বাধ্য করা হয়, আইন না মানলে শাস্তি পেতে হয়; তার নিশ্চয়তা সৃষ্টি করা পুলিশের ফৌজদারি কাজের অংশ।
পুলিশের এই দায়িত্বপালন ব্যতিরেকে রাষ্ট্রকে কার্যকর রাখা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র কার্যকর; তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পুলিশ কার্যকর। রাষ্ট্র কার্যকর—তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে। পুলিশের এই ভূমিকা পালনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের সব উপাদান ও অঙ্গের দায়িত্ব। পাশাপাশি ম্যান্ডেটের বাইরে অধস্তন পুলিশ খেয়ালখুশিমতো অন্যায় লাভের জন্য যেন কিছু না করে, তা তদারকির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।
আবুল কালাম আযাদ অতিরিক্ত ডিআইজি ও অধিনায়ক, এসপিবিএন-১, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, [email protected]
*মতামত লেখকের নিজস্ব