ভোলার সদর উপজেলার শিবপুরে নদীভাঙন প্রতিরোধে ৬০৫ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দের খবরে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এই বিশেষ বরাদ্দের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে একটি গণসমাবেশের আয়োজন করেন স্থানীয়রা।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে শিবপুর ইউনিয়নের স্লুইসগেট এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) শিবপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এই গণসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবপুর ইউনিয়ন বিজেপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মাইনুদ্দিন মিয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্র সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেন, রুমি সিকদার, পৌর শ্রমিক পার্টির সভাপতি মো. জাকির হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্র সমাজের সভাপতি মো. জাবেদ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিজেপি সভাপতিসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ।
সমাবেশে বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে নদীভাঙনের কবলে পড়ে শিবপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, বসতভিটা এবং সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। নদীভাঙন এই অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমন চরম সংকটের মুহূর্তে ভাঙন রোধে ৬০৫ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, এই প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে শিবপুরের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এর ফলে মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এই বিশেষ পদক্ষেপের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাইনুদ্দিন মিয়া বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম, পার্থ এমপি হলে মন্ত্রী হবেন, আর মন্ত্রী হলে ভোলার নদীভাঙন রোধসহ ব্যাপক উন্নয়ন করবেন। তারই ধারাবাহিকতায় শিবপুর ইউনিয়নের নদীভাঙন রোধে ৬০৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ শিবপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সেই দাবি এখন বাস্তবায়নের পথে।” তবে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি এর স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।