চাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, নকল-ভেজাল প্রতিরোধ এবং পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশের ৪২টি জেলায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের দায়ে মোট ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভোক্তা অধিদপ্তরের মোট ৫৪টি দল একযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মূলত চাল ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্য মূল্য বজায় রাখা হচ্ছে কি না, মূল্যতালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে কি না এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়। এছাড়া ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিক মজুদ এবং সরবরাহে বাধা সৃষ্টি রোধ করতে ব্যবসায়ীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরের মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্গত ঢাকা উদ্যান ও চন্দ্রিমা মডেল টাউনের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, বেকারি এবং ওষুধের দোকানে তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়। অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা এবং মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তদারকি চলাকালীন এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মোটরসাইকেলের তালাকে বিদেশি পণ্য হিসেবে মোড়কজাত করে বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠান কারখানার প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেয়াদোত্তীর্ণ রং ব্যবহার করে কেক তৈরির দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে একটি ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পণ্য ক্রয়কালে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।