রান্নাবিষয়ক অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী’-র নবম সিজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের স্বনামধন্য ব্র্যান্ড ‘রাঁধুনী’র আয়োজনে এই রিয়েলিটি শোর এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীবনবদলের রেসিপি’। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) শেষ সময় আগামী ১৫ নভেম্বর। শর্ত অনুযায়ী, ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘সেরা রাঁধুনী সিজন ৯’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ সাইফুল ইসলাম। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের প্রধান ইমতিয়াজ ফিরোজ এবং মিডিয়াকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাছরাঙা টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক অজয় কুমার কুন্ডু উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার নতুন লোগো এবং প্রমোশনাল কনটেন্ট উন্মোচন করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সূচনা ঘোষণা করা হয়।

এবারের সিজনে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইন্ডালজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ শেফ শুভব্রত মৈত্র, লো মেরিডিয়েন ঢাকার এক্সিকিউটিভ পেস্ট্রি শেফ শাহিদ শাহিন এবং জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান রন্ধনশিল্পীদের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা বরাবরের মতোই মাছরাঙা টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনের প্রারম্ভিক পর্যায়ে ‘সেরা রাঁধুনী’-র দুই দশকের দীর্ঘ পথচলা, অর্জিত সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পারভেজ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘২০ বছর আগে রান্নার মেধার সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে জীবনবদলের যে স্বপ্ন নিয়ে সেরা রাঁধুনী যাত্রা শুরু করেছিল, সিজন ৯-এ তা আরও বড় পরিসরে রূপ পাবে বলে আমরা আশা করি।’ এরপর মাছরাঙা টেলিভিশন ও মিডিয়াকম লিমিটেডের পক্ষ থেকে ২০ বছরের অর্জন এবং সম্প্রচারের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান অজয় কুমার কুন্ডু। এছাড়া গত দুই দশকে ‘সেরা রাঁধুনী’-র মাধ্যমে জীবন বদলে যাওয়া নতুন উদ্যোক্তা ও শেফদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প এবং বর্তমান সিজন নিয়ে নিজস্ব ভাবনা তুলে ধরেন ইমতিয়াজ ফিরোজ। পুরো সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন উপস্থাপক মৌসুমী মৌ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক ‘সেরা রাঁধুনী সিজন ৯’-এ অংশ নিতে পারবেন। আগ্রহী প্রতিযোগীরা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অথবা এসএমএস পদ্ধতিতে নিজেদের রেসিপি ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়ে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে: SR9 <স্পেস> নাম <স্পেস> বয়স <স্পেস> বিভাগ <স্পেস> রেসিপির নাম। এই বার্তাটি পাঠাতে হবে ৮৮০৯৬১২৬১৫৫৫৫—এই নম্বরে।

আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, বিচারকদের পর্যালোচনায় কারও রেসিপি নির্বাচিত হলে তাকে বিভাগীয় অডিশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। অডিশনের দিন নির্বাচিত রেসিপির খাবার প্রতিযোগীকে নিজ হাতে তৈরি করে নিয়ে আসতে হবে। সেখানে তৈরি করা খাবারের মান এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড অডিশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

দেশব্যাপী বিভাগীয় অডিশন সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকায় গ্র্যান্ড অডিশনের মাধ্যমে স্টুডিও রাউন্ডের প্রতিযোগীদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে। স্টুডিও রাউন্ডে খাবারের স্বাদের পাশাপাশি পরিবেশনা, পুষ্টিমান, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি বিচার করা হবে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বিজয়ী রাঁধুনী পুরস্কার হিসেবে পাবেন ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ যথাক্রমে ১০ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা পুরস্কার পাবেন।

‘সেরা রাঁধুনী সিজন ৯’-এর পুরো আয়োজনটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে মিডিয়াকম লিমিটেড। হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছে রাঙামাটি ওয়াটারফ্রন্ট রিসোর্ট। প্রতিযোগিতার বিষয়ে যেকোনো তথ্যের জন্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে ০৮০০০১১১৩৩৩—এই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।