দেশের সকল বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার দাবি জানিয়ে করা একটি রিট আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট আজ বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার সূত্রপাত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ১৬ মার্চের একটি স্মারকের মাধ্যমে। ওই স্মারকে সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের কথা জানানো হয়। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয় যে, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য পরীক্ষা নেওয়া হবে, তবে শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
লটারি পদ্ধতি বাতিলের এই ১৬ মার্চের স্মারকের বিরুদ্ধে মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্ন্যান্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ আবেদনকারী হয়ে গত ৭ অক্টোবর হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। আজ বুধবার আদালতের কার্যতালিকায় ২৯ নম্বরে রিটটি স্থান পায়। শুনানির সময় আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী জাহিদুর রহমান তালুকদার এবং রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. কামাল পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী জাহিদুর রহমান তালুকদার জানান, প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি যেন বহাল থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই রিট করা হয়েছে। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে ও গবেষণা করে ভর্তিপ্রক্রিয়ার বিষয়ে নীতিমালা করা হোক। দুই দিন পরপর ভর্তি প্রক্রিয়া পরিবর্তন যেন না করা হয়।”
আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চ নিয়মিত বেঞ্চের কার্যক্রম শুরুর কথা উল্লেখ করে রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর নিয়মিত বেঞ্চ বসলে শুনানির জন্য রিটটি পুনরায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে সেই পদ্ধতিই চলে আসছিল। তবে গত ১৬ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ লটারি পদ্ধতি বাতিলের স্মারক জারি করে। এরপর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করে। নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
রিটের প্রার্থনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি ও তার উপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সেই বিষয়ে রুল চেয়েছেন আবেদনকারী।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণি ও অন্যান্য শ্রেণিতে পরীক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ থেকে বিবাদীদের বিরত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হোক। পাশাপাশি বিদ্যমান ভর্তি ব্যবস্থা বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই রিটে বিবাদী হিসেবে শিক্ষাসচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিবকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।