ইন্টারনেট অব থিংস, যা সংক্ষেপে আইওটি (IoT) নামে পরিচিত, হলো এমন একটি উন্নত প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত গৃহস্থালি সরঞ্জাম থেকে শুরু করে যানবাহন এবং বড় শিল্পকারখানার জটিল যন্ত্রপাতিগুলো ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

আইওটি ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রম মূলত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ার শুরুতে বিভিন্ন সেন্সরের সাহায্যে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বা চারপাশের পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের পর যোগাযোগপ্রযুক্তির সহায়তায় সেই ডেটাগুলো নির্দিষ্ট যন্ত্র, সার্ভার কিংবা ক্লাউড ব্যবস্থায় প্রেরণ করা হয়। সেখানে সংগৃহীত তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রটিকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয় অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কৃষি জমিতে মাটির আর্দ্রতা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কমে যায়, তবে আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে সেচযন্ত্রটি কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজে থেকেই চালু হতে পারে।

ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক শিল্প খাতেও এই প্রযুক্তি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা খাতের আধুনিকায়নে দূর থেকে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা, কৃষিকাজে স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্মার্ট সিটির যানজট ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পকারখানায় যন্ত্রপাতির সম্ভাব্য ত্রুটি আগেভাগেই শনাক্ত করার কাজে আইওটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে কাজের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সময় ও সম্পদের অপচয় অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। যদিও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করার মতো কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে, তবুও তথ্যভিত্তিক সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও গতিময় করতে আইওটি বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সূত্র: আইবিএম