বিশ্বজুড়ে বর্তমান কর্মসংস্থানের বাজারে এখন সবচেয়ে আলোচিত এবং উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি প্রশ্ন— এআই কি আমার চাকরি খেয়ে ফেলবে? এই উৎকণ্ঠা কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ নিচ্ছে অনেকের কাছে। ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার নাফিসার ক্ষেত্রেও ঠিক এই প্রশ্নটিই উদয় হলো এক দুপুরে, যখন তিনি লক্ষ্য করলেন যে আগে যে কাজ সম্পন্ন করতে তিন দিন সময় ব্যয় করতে হতো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুল ব্যবহার করে এখন তা মাত্র এক দিনেই শেষ করা সম্ভব হচ্ছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্যানুসারে, যেসব কাজ পুনরাবৃত্তিমূলক বা রিপিটিটিভ প্রকৃতির, যেমন— ডেটা এন্ট্রি কিংবা সাধারণ মানের লেখালেখি, সেগুলো বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যেসব কাজে সৃজনশীলতা, জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং গভীর মানবিক বোঝাপড়ার প্রয়োজন হয়, সেই ধরনের কাজের চাহিদা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে যন্ত্র এখনো মানুষের সক্ষমতার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সব ধরনের পেশার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব একরকম নয়।
তবে এই ঝুঁকির বিষয়টি অত্যন্ত বাস্তব। সময়ের সাথে সাথে নতুন দক্ষতা অর্জন না করলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যারা কেবল একটি সরল বা সীমিত দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এখনই নিজেদের পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দেরি করার সুযোগ খুব একটা নেই।
তবে এই সংকটের সমাধানও বেশ সহজ। এআই টুলগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে বরং নিজের কাজের সহকারী হিসেবে গ্রহণ করে সেগুলোকে কাজে যুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি নতুন টুল হাতে-কলমে ব্যবহার করে দেখার চেষ্টা করা যেতে পারে, যা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হবে। পরিশেষে বলা যায়, যারা দ্রুত এই প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন, তারাই টিকে থাকবেন; আর যারা পারবেন না, তারা নিজের অজান্তেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন।